ঢাকাFriday , 9 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জরাজীর্ণ কাঠের ব্রিজে প্রাণহানির ঝুঁকি: স্থায়ী ব্রিজের দাবিতে সরিষাবাড়ীতে ১০ গ্রামের ক্ষোভ

Mahamudul Hasan Babu
October 9, 2026 4:47 pm
Link Copied!

​রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাঠের ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দুই উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর টাকুরিয়া এলাকায় জিয়া খালের ওপর ২৫ বছর আগে তৈরি হওয়া পিলারের ওপর এই কাঠের ব্রিজটি নির্মিত। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি নড়বড়ে ও মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন চরম আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয় অধিবাসীদের। দ্রুত সময়ে জরাজীর্ণ এই ব্রিজের স্থানে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,২০০১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের টাকুরিয়া এলাকায় জিয়া খালের ওপর একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে অদৃশ্য কারণে পিলার স্থাপনের পরপরই ব্রিজের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার টাকুরিয়া, মালিপাড়া, ব্রাহ্মণজানী, মানিক পটল, বিন্নাফৈর, চর সরিষাবাড়ী এবং পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর, শালগ্রাম ও মাজনাবাড়ীসহ ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
​পরবর্তীতে দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে পরিত্যক্ত সেই পিলারের ওপর লোহার অ্যাঙ্গেল ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু বানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না থাকায় কাঠের পাটাতন ভেঙে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আগে শুকনো মৌসুমে হেঁটে এবং বর্ষায় ৭ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হলেও, বর্তমানে জরাজীর্ণ এই ব্রিজটি পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকছেন পথচারীরা।

​টাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই গেদা, সালাম মিয়া ও বাদল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরুতে ব্রিজটির পিলারের কাজ দেখে আমরা আশার আলো দেখেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছর পার হলেও এটি পূর্ণাঙ্গ সেতুতে রূপ নেয়নি। এখন এটি আমাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​স্থানীয় সমাজসেবক বাবুল সরকার জানান, চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও একটি মজবুত ব্রিজের অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারছেন না। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরও ভাঙাচোরা রাস্তা ও এই বিপজ্জনক ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জিয়া খালের ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক মেরামতের দাবি জানান।

​এ বিষয়ে পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক আলী বলেন, “সাময়িকভাবে মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্রিজের লোহার অ্যাঙ্গেল ও কাঠের পাটাতন পরিবর্তন করে সংস্কার করা হবে। এছাড়া এখানে যেন একটি স্থায়ী পাকা ব্রিজ নির্মিত হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।