বুধবার (১৪ অক্টোবর/২৬) নিহত গাইবান্দা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার বুজরুক রসুলপুরের আসাদুল ইসলাম (৩০) -এর পিতা ঠান্ডা মন্ডল মামলা রুজু করেন। পীরগঞ্জ থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) তাজুল ইসলামকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর/২৬) পীরগঞ্জ পৌরসভার নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ সহ প্রধান ফটকের (চঙজঈঐ) ছাদ ঢালাইকাজ চলছিল। এতে ২১ জন মিস্ত্রি ও শ্রমিক কাজ করছিল। বিকেলে ছাদ ঢালাইয়ের শেষের দিকে প্রধান ফটকের ছাদ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় ৩জন শ্রমিক চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে চাপা পড়া ৩জন শ্রমিককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুল ও শিহাব নামের ২ শ্রমিককে মৃত্যু ঘোষনা করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত একাধিক গণমাধ্যম কর্মী ও বিভিন্ন শির্ক্ষাথীর শতাধিক পোস্টে কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ঢালাইয়ের আগের দিন (১২ অক্টোবর/২৬) পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি, উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাপ্পি, পৌর নিবাহী আব্দুর রহিম প্রামানিক, পৌর প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, উপসহকারি প্রকৌশলী মেহেরাব হোসেন জনি, কার্যসহকারি রাফিকুন খান সহ কিছু কর্মকর্তা ছাদ ঢালাইয়ের সাটারিং সহ রডের কাজ পরিদর্শন করছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি জানান, ঘটনা তদন্তে রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের স্বাক্ষরিত চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্য তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন-রংপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলি, পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলি।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মামলায় ৯জনের নাম উল্লেখ পুর্বক ৫/৬জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। এরা হলেন- প্রধান ঠিকাদার ভিশন ২০২০ এর স্বত্বাধিকারী শাহিদুল ইসলাম, পৌর নির্বাহী (সচিব) আব্দুর রহিম প্রামানিক, পৌরসভার প্রকৌশলি নুরুজ্জামান, উপসহকারি প্রকৌশলি মেহেরাব হোসেন জনি, কার্যসহকারি রাফিকুন খান, সাব ঠিকাদার রংপুরের হাফিজুর রহমান ও পীরগঞ্জের লাবলু, প্রধান ঠিকাদারের ম্যানেজার ওলিউল্লাহ ওলি ও নয়ন। ঘটনায় নিহত সাদুল্লাপুরের আসাদুল ও রংপুরের শিহাবের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর বুধবার দুপুরে দাফনকার্য সম্পন্নে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমূল হক জানান, হত্যা নয়, দায়িত্বে অবহেলার কারনে মামলা রুজু হয়েছে। পৌর নির্বাহীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি অপরাধিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে পৌর ভবন নির্মানের কাজ পায় ভিশন ২০২০ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার বরাদ্দ ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের নভেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
—
