ঢাকাWednesday , 21 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

​অস্তিত্ব সংকটে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

Mahamudul Hasan Babu
October 21, 2026 1:00 pm
Link Copied!

​মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী, ​বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের। কিন্তু চালুর কয়েক বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি আজ গভীর অনিশ্চয়তা ও তীব্র অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শ্রেণি ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং দীর্ঘ সাত বছর ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের সন্তানদের দূর-দূরান্তে না পাঠিয়ে ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশেই মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির পাশে মনোরম পরিবেশে স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়। সূচনালগ্নে ১৬ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি প্লে থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। পরিকল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত কলেজ শাখা চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০১৯ সাল থেকে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। ২০২০ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের অনুমোদন পেলেও বিদ্যালয়টিকে তৎকালীন উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের পাশে স্থানান্তর করা হয়। স্থানান্তরের পর থেকেই নিজস্ব সৌন্দর্য ও স্বকীয়তা হারাতে থাকে এই বিদ্যাপিঠটি।

​অবকাঠামোগত ও সুযোগ-সুবিধার সংকটে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৭৫ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬০ জনে। সরেজমিনে জানা যায়, টিনের চালে ছিদ্র থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভেসে যায়। বাধ্য হয়ে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হয় শিক্ষকদের। প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম, খেলার মাঠ কিংবা সুপেয় খাবার পানির ব্যবস্থা। ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদুজ্জামান আহসাফ এবং ৩য় শ্রেণির অভিভাবক তাসলিমা বেগম জানান, নানা প্রতিকূলতা ও ভোগান্তি সত্ত্বেও শুধুমাত্র শিক্ষকদের অকৃত্রিম আন্তরিকতার কারণেই এখনও এখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

​এদিকে টানা সাত বছর বেতন-ভাতা না পেয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। সহকারী শিক্ষক আলেয়া বেগম, নাদিম আহমেদ ও আফরোজা খানম আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ সাত বছর কোনো বেতন না পেলেও নিজেদের ব্যক্তিগত খরচে তারা স্কুলটি টিকিয়ে রেখেছেন। ভিসি পরিবর্তনের পর থেকে সংকট আরও ঘনীভূত হলেও কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে এটি জেলার অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হতে পারে বলে তারা মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ঈমান আলী এবং সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ নাজমুল ইসলাম নাহিদসহ সাবেক শিক্ষার্থীরাও দ্রুত স্কুলটিকে একটি মডেল স্কুলে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

​অবশ্য স্কুলটির এই করুণ পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক আশার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ সোহেল হাসান। তিনি জানান, বিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে শিশুদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার স্বার্থে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করে এটিকে অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন করে নিয়োগ ও বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

​নতুন উপাচার্যের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে দ্রুত স্থবিরতা কেটে বিদ্যাপীঠটি তার হারানো গৌরব ও নতুন প্রাণ ফিরে পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের।