রওশন আলম পাপ্পু, ডোমার (নীলফামারী) সংবাদদাতাঃ- নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোমনাতী ইউনিয়নের সরকার পাড়া জামে মসজিদ কমিটির দ্বন্দ্বের কারণে মসজিদ থেকে মাত্র এক শত ফুট দুরে মাদ্রাসায় মেহরাব বানিয়ে সেখানে নামাজ আদায় করছেন কমিটির একাংশ। এছাড়া একই মসজিদের নামে আরো একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পার্শ্ববর্তী জমিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সরকার পাড়া জামে মসজিদটি দীর্ঘ দেড়শো বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মসজিদের নামে দান করা জমিতে মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণ দিকে জমি দাতার কবর রয়েছে। এছাড়া মসজিদ সংলগ্ন রয়েছে অজুখানা এবং ইমাম মোয়াজ্জেমের থাকার ঘর। এবারে বিএস রেকর্ডে ৫শতাংশ জমি মসজিদের নামে এবং ২শতাংশ জমি সরকার পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নামে রেকর্ডভূক্ত হয়। মসজিদের নামে বিভিন্ন জনের দান করাসহ মোট এক একর ৪শতাংশ জমি মসজিদের নামে রেকর্ড ভুক্ত হয়। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি মসজিদটি প্রশস্ত এবং দ্বিতল ভবন করার জন্য মসজিদের জায়গা ছাড়াও প্রায় তিন শতাংশ জমি আমরা মসজিদের নামে দান করতে সম্মত হই। ইতিমধ্যে মসজিদের নকশা সীমানা নির্ধারণসহ সকল প্রকৃয়া সম্পন্ন করা হয়। এরই মাঝে কয়েকজন ব্যাক্তি মাহাতাব উদ্দিন, নুর ইসলাম, ফজলার রহমান লেবু, মোতালেব হোসেন, তালেব হোসেন, নুর আলম ও কামরুল ইসলামগন মসজিদের নামে রেকর্ড ভুক্ত জমি পুনরায় রেজিস্ট্রি করে দিতে বলেন। এনিয়ে বাক বিতন্ডা এবং মারডাং করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু-পক্ষই ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ডোমার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা ঘরটিতে মেহরাব তৈরি করে সেখানে নামাজ আদায় করছেন এলাকাবাসীর একাংশ। এর পাশেই একই নামে মসজিদ তৈরির জন্য সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে। মসজিদের নামে জমি দাতার ওয়ারিশ আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম জানান, আমার বাপ দাদারা মসজিদে জমি দান করে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। সেই জমি বর্তমানে মসজিদের নামে রেকর্ড ভুক্ত হয়। তারা আবারও সেই জমি আমাদের কাছে রেজিষ্ট্রি নিতে চায়। বর্তমানে আইনানুগ ভাবে মসজিদের নামে থাকা জমি রেজিস্ট্রি দেয়ার কোন সুযোগ নাই।
