ঢাকাThursday , 22 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পীরগঞ্জে তীব্র দাবদাহে আমন চাষিরা বিপাকে বৃষ্টির অভাবে বাড়তি ব্যয়

Mahamudul Hasan Babu
October 22, 2026 3:15 pm
Link Copied!

মোঃ আকতারুজ্জামান রানা পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগঞ্জে তীব্র দাবদাহ ও দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে আমন ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রোপা আমনের জমিতে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। কোথাও কোথাও জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এতে ধানের স্বাভাবিক ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমন ধানের মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টির ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা কমে গেছে। তীব্র রোদ ও গরমে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় ধানগাছ সতেজ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অনেক কৃষক সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বাড়তি সেচের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সময়মতো বৃষ্টি না হলে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫হাজার ৫শ’৯৫ হেক্টর রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। তবে বৃষ্টির ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলার পীরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক সফু মিয়া বলেন, ধানের জমিতে পানি নেই। বাধ্য হয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। দ্রুত বৃষ্টি না হলে ফলন নিয়ে বিপদে পড়ব। এসময় জমিতে পানি না হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে ধানের।
রায়পুরের কৃষক মজনু মিয়া বলেন,জমির মাটি ফেটে গেছে। ধানগাছের বৃদ্ধি আগের মতো নেই। এখন আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি ছাড়া উপায় দেখছি না। আমন ধান তাদের সারা বছরের খাদ্য ও আয়ের অন্যতম ভরসা। তাই দ্রুত বৃষ্টিপাতের দরকার।
কুমেদপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক রিপন মিয়া বলেন, এ সময় আমন ধানের জমিতে প্রচুর পানির প্রয়োজন। ধানগাছে শিষ বের হওয়ার সময় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এবারে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সেচ দিতে হচ্ছে,এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বিঘা প্রতি প্রায় ১ হাজার ৫ শত।
রায়পুর ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেই আমরা আমন ধানের চাষ করি। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি না হলে জমিতে পানির সংকট দেখা দেয়। তখন বিকল্প উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে বাড়তি টাকা খরচ হয়, পাশাপাশি সময় ও শ্রমও বেশি লাগে।
পৌরসভার কৃষক রানু মিয়া বলেন, আমন ধানের আবাদে ধানগাছে শিষ বের হওয়ার সময় হওয়ায় জমিতে পানির প্রয়োজন আরও বেড়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে জমিতে পানি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে সেচ দিতে গেলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যায়। কৃষকরা অনেক আশা নিয়ে ধান চাষ করেন, কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সেই আশা পূরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে এবং জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, আগামী দিনে বৃষ্টিপাত হলে ধানের ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে।


—