আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি : গাংনী উপজেলার কাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়| গাংনী উপজেলার সর্ববৃহৎ গ্রাম কাজীপুর| সীমান্ত ঘেষা অনেক বড় একটি গ্রাম | এক গ্রামেই ১৫ হাজার লোকের বাস| বর্তমানে রেমিট্যান্স গ্রাম নামে পরিচিত| অসংখ্য মানুষ রয়েছে প্রবাসে| যে গ্রামে শিক্ষার আলো জ্বালাতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রয়েছে ১ টি কলেজ| তবে ৮০ এর দশকে এই গ্রামে এত বিদ্যালয় ছিল না|
‘বিদ্যালয়- মোদের বিদ্যালয়, যেখানে সভ্যতারই ফুল ফোটানো হয়’এই মূলমত্রে গড়ে উঠা একটি আদর্শ শিক্ষাঙ্গন| নিবীড় পরিচর্যায় গড়ে উঠা পাখি ডাকা, ছায়াঘেরা সবুজ আঙ্গিনা যেন ফুল-ফলে সুশোভিত লতায় পাতায় জড়ানো অনিন্দ সুন্দর মনোরম পরিবেশ | বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে দাঁড়ালেই মনে হবে যেন সবুজের আলিঙ্গনে সাজানো চিত্ত বিনোদনের জন্য একটি বাগান | ভিতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে নানা রংয়ের সুবাসিত ফুলের বাহার| যেন মন কেড়ে নেয়া এক অপরুপ দৃশ্য| বিদ্যালয়ের প্রতিটি দেয়ালে অংকিত নানা রংয়ের আল্পনা , বর্ণ পরিচিতি , কবি সাহিত্যিক বরেণ্য ব্যক্তিদের ছবি ও গুনীজনদের বানী একজন শিক্ষার্থীর মনে ¯^প্ন জাগাতে উদ্দীপনা ˆতরী করে| এ যেন এক ¯^প্নপুরী| মায়ের আদরে লালিত ¯^প্নালোক| যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দর জীবন গড়া প্রত্যয় নিয়ে আনন্দে শিক্ষালাভে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে| সেই বিদ্যালয়টির নাম আমাদের সবার জানা | আমাদের প্রিয় স্কুল ,প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়|
গাংনী উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দুরত্বে গাংনী-বামন্দী হয়ে কাজীপুর প্রধান সড়কের পার্শ্বে কাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়| ১৯৭২ সালে তৎকালীন বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে স্থাণীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন এই বিদ্যালয়টি| ৪ বিঘা জমির উপর গড়ে উঠেছে বিদ্যালয়টি| বিদ্যালয়ের মাঠ জুড়েই রয়েছে কাঁঠাল বাগান| সব সময়েই ছায়াঘেরা পরিবেশ | সর্বোপরি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষকবৃন্দ ও পরিচালনা পর্ষদ, বিদ্যালয়ে রয়েছে পৃথক নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ| এই মসজিদে ছেলে মেয়েরা পৃথক স্থানে নামাজ আদায় করে| ভাল লেখাপড়ার খবর পেয়ে গ্রামের অনেক দূর দূরান্ত থেকে ছেলে মেয়েরা এখানে পড়তে আসে | জানা গেছে, স্থানীয় মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্টেন স্কুল থেকেও ছেলে মেয়েরা এখানে পড়তে আসে| এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলে মেয়েরাও এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে কৃতিত্বের ¯^াক্ষর রেখেছে|
হাটি হাটি পা পা করে আজ শিক্ষাঙ্গনে সাফল্যের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী| শিক্ষকমন্ডলীর কাছে এটা যেন একটি আলোকবর্তিকা, বাতিঘর| ধ্যানে জ্ঞানে শয়নে ¯^পনে নিজের সন্তানের মত আগলে রেখে শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে নিরবে নিভৃতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সুনাম কুড়িয়ে যাচ্ছেন ভালবাসার বিদ্যাপীঠকে| অজ পাড়াগাঁয়ের বিদ্যালয় হলেও কোন ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই বিদ্যালয়টি|
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান এর কথা না বললেই নয়| তিনি যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন আলোর সন্ধান পেয়েছে| তিনি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ঐকান্তিকভাবে ভালবাসা দিয়ে নিরলস প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য ৮ জন দক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রশিক্ষিত সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি আদর্শ শিক্ষাঙ্গন| বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৬৪ জনেরও বেশী|
শিশু শ্রেনীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা-১৭ জন, প্রাকে-৩০ জন, ১ম শ্রেনীতে-৩৩, ২য় শ্রেনীতে-৪৪ জন, ৩য় শ্রেনীতে-৪৫ জন, ৪র্থ শ্রেনীতে-৫৫ জন এবং ৫ম শ্রেনীতে -৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে| ২০২৫ ইং সালে প্রাথমিক বৃত্তিতে ৩ জন (ট্যালেন্টপুলে) মেধা তালিকায় বৃত্তি লাভ করেছে| এমনিভাবে প্রতিবছরই এই বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত বৃত্তি লাভ করে থাকে|
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস, তাবাসসুম, ফাতেমা খাতুন, মুক্তা, জুনাইদ, শিহাব জানায়, আমরা ধন্য এমন একটি বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে| শিক্ষার জন্য মনোরম পরিবেশ| আমাদের শিক্ষক মন্ডলী খুব ভাল| আমাদের পরম আদরে -যত্মে, শাসনে পাঠদান করিয়ে থাকেন| যোগ্য শিক্ষকদের সান্নিধ্যে আমরা ধন্য|
লেখাপড়ার পাশাপাশি কো-কারিকুলাম খেলাধূলা, চিত্রাঙ্কন, রচনা ,উপস্থিত বক্তৃতা, ইংরেজীতে ডিবেট চর্চ্চা ও হাতের সুন্দর লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়| বিদ্যালয়ের অর্জন ও ঈর্ষনীয় সাফল্যের কথা বলে শেষ করা যাবে না|
এ ব্যাপারে গাংনী সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিইও) আশাফুদ্দৌলা জানান, গাংনী উপজেলায় একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়| এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপজেলার ১৬২ বিদ্যালয়ের কোথাও নেই| এটি একটি মডেল বিদ্যাপীঠ| তবে অনেক শিক্ষার্থী থাকলেও অদ্যাবধি অবকাঠামো উন্নয়নের আধুনিকতার ছোঁয়া এই বিদ্যালয়ে লাগেনি| পুরাতন ভবনে শিক্ষার্থীরা ঠাসাঠাসি করে বসে লেখাপড়া করছে| শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অবিল¤ে^ শিক্ষা প্রকৌশলী ও জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) এমনকি স্থাানীয় জনপ্রতিনিধিগণ একাধিকবার পরিদর্শন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও সার্বিক সফলতা নিয়ে প্রশংসা করেছেন| এরকম আদর্শ বিদ্যাপীঠ আমাদের সকলের প্রত্যাশা| যেখানে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার নতুন প্রজন্ম|
