আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি :গাংনী উপজেলা এখন ভারপ্রাপ্তরা ভর করে বসে রয়েছে| দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য অফিসারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন| একইভাবে দীর্ঘদিন যাবত নানা জটিলতায় বন্ধ হয়ে রয়েছে স্থানীয় নির্বাচন| ফলে গাংনী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, গাংনী পৌর সভার মেয়রসহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এর জায়গাগুলো ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালানো হচ্ছে| ফলে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গাংনী উপজেলা বাসী| উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পদ ২ মাস ধরে খালি থাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে একাই সামলাতে হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব| একইসাথে তিনি গাংনী উপজেলার সকল স্কুল কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে| এ যেন লেজে গোবরে অবস্থা| একা সব দায়িত্ব পালন করতে এসি ল্যান্ড কে হিমশিম খেতে হচ্ছে| অন্যদিকে নাগরিকরা তাদের নানা কাজে সেবা না পেয়ে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছে| জানা গেছে, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের বদলী আদেশ হওয়ার পর ইতোমধ্যে ২ জন (১ জন পুরুষ ও ১ জন নারী) ইউএনও হিসাবে গাংনীতে যোগদানের আদেশ হলেও অনিবার্য কারনে এখানে যোগদান করেননি| এসব দেখার কেউ নেই|
গাংনী উপজেলায় শিক্ষার অবস্থা বেহাল| গাংনী সরকারি ডিগ্রী কলেজে দীর্ঘদিন যাবত অধ্যক্ষ পদ খালি রয়েছে| ১০ বছর যাবত মনিরুল ইসলাম নামের একজন আওয়ামীলীগের দোসর ফ্যাসিষ্ট অধ্যক্ষ সেজে দায়িত্ব পালন করে আসছে| মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতে রিট আবেদন করে তিনি বহাল তবিয়তে কলেজ প্রধানের চেয়ার দখল করে বসে কোটি টাকার আলীশান বাদি গাড়ি করে ফেলেছেন| এসব কারনে এবছর কলেজটিতে ছাত্র ভর্তির হার খুবই কম| কমার্স শাখায় এপর্যন্ত মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে| জানা গেছে, আদালত থেকে তার করা রিট অবেদন খারিজ করে দিলেও তিনি আদালতের রায় উপেক্ষা করে চেয়ারে বসে রয়েছেন| এমনিভাবে গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে আমিরুল ইসলাম, গাংনীর কাজীপুর কলেজ, গাংনী পাইলট স্কুল এন্ড কলেজে মোস্তাফিজুর রহমান বাবল, বামন্দী নিশিপুর স্কুল এন্ড কলেজে সাজ্জাদুল আলম ¯^পন, ভাটপাড়া বিএন কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে| এছাড়াও গাংনী উপজেলায় ৭৮ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেশীরভাগ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে| একইভাবে গাংনী উপজেলায় ১৬২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৬ জন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন| ফলে গাংনীতে সব ক্ষেত্রেই হ-য-ব-র-ল অবস্থা|
গাংনীতে দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার , প্রাণিসম্পদ অফিসারের মত সেবা প্রদান কারী প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা না থাকায় গাংনীর মানুষ নাগরিক সেবা বঞ্চিত হলেও কারও যেন কোন দায়বদ্ধতা নেই| এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারাও শ্রোতে গা ঢালান দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে| এসব দায়সারা সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিক সেবা গ্রহিতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন অচিরেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং খালি পদ গুলি পূরণ হবে |
