সবুজ হোসেন, নওগাঁ:নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজাউর করিমকে (পরিচিতি নম্বর-১৯১৭৫) বিভিন্ন অভিযোগের কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন মাধ্যমে এমন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের তথ্য বলছে, রেজাউর করিমকে আলাদাভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রত্যাহার করা হয়নি; বরং তাঁর সঙ্গে একই প্রজ্ঞাপনে থাকা মোট ৫৫ জন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন এর সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নিয়মিত কর্মকর্তাদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ থেকে প্রত্যাহার করে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁদের নামের পাশে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তালিকায় ৫৫ নম্বরে রয়েছেন মো. রেজাউর করিম (পরিচিতি নম্বর-১৯১৭৫)। তিনি বর্তমানে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নামের পাশেও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ, প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য অনুযায়ী রেজাউর করিমকে কোনো অভিযোগের কারণে প্রত্যাহার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমন কোনো কথা ওই আদেশে উল্লেখ নেই। বরং একই আদেশে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত আরও ৫৪ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে একই প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তাঁদের সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদায়নের আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে একই সময়ে প্রকাশিত আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ১৩ জন কর্মকর্তাকে সহকারী কমিশনার হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ন্যস্ত করার বিষয়টিও দেখা যায়। ফলে মাঠ প্রশাসনে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এসব আদেশ জারি হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনের তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয়।
রেজাউর করিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রশাসনিক বিষয়ে অভিযোগ থাকার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা পৃথক বিষয়। তবে শুধু ২৮ সেপ্টেম্বরের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনকে ভিত্তি করে তাঁর প্রত্যাহারকে অভিযোগের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই, কারণ প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে স্পষ্টভাবে পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁকে ও অন্য ৫৪ কর্মকর্তাকে ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে প্রকাশিত জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও ৫৫ কর্মকর্তাকে এসি ল্যান্ড পদ থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই রেজাউর করিমের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী বা কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল; তবে তাঁর বর্তমান প্রত্যাহার আদেশের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত কারণ হলো সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য প্রত্যাহার।
