বীরগঞ্জ(দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আকালু মোহাম্মদের ছেলে বৃদ্ধ জমির উদ্দিন(৯০) ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগে জানান, ক্রয় সুত্রে প্রাপ্ত বীরগঞ্জ পৌরশহরের সুজালপুর মৌজার জে,এল,নং- ১৬৮, আগত খতিয়ান নং- সি,এস-২৮৪, এস.এ -৪২, খারিজ- ৮১২, হোল্ডিং নং- ৬৯৬, দাগ নং- ৩৮৮, রকম- ডাঙ্গা, মোট দাগের পরিমান ৫.৯৬ একর, তন্মধ্যে ১.০০ একর জমি নিয়ে স্থানীয় মৃতঃ এস,এম,এম,ঈএ কাদেরী ওরফে নান্নু মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ সাবিহা খাতুনের সাথে বিরোধ চলে আসছে। ইতিপূর্বে বিরোধীয় জমির বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের রেষারেষির কারনে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় বীরগঞ্জ থানায় সহ বিভিন্ন বৈঠকে একাধিকবার স্থানীয় গন্যম্যান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আপোষ- মিমাংসায় কোন সুরাহা না হওয়ায় বৃদ্ধ জমির উদ্দিনের দৃষ্টি শক্তি ও শ্রবন শক্তি অনেকাংশে লোপ পেলে নিজ অংশ সহ ওয়ারিশদের পক্ষে জেনারেল পাওয়ার অব এ্যটনী গ্রহিতা জামাতা মোঃবাদশা মিয়া(৪৮) বাদী হয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২, দিনাজপুর এ মোকদ্দমা নং- ২০/২০২২ অন্য দায়ের করেন এবং উল্লেখিত মোকদ্দমার ধার্য্য তারিখ রয়েছে আগামী ০৫/১০/২০২৬ ইং। ভুক্তভোগীরা আরও জানান যে, উক্ত মামলা চলমান ও নিষ্পত্তি না হলেও এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত কয়েকদিন থেকে ছাবিহা খাতুন(৬৫) ও তারছেলে সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতা সুলতান মাহমুদ মূকুল (৪৮) এর মদদে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ভাড়াটিয়া গ্রুপের পাহাড়ায় রাজমিস্ত্রী দ্বারা বর্ণিত সম্পত্তি জবরদখলের নিমিত্তে ইট ,বালু, সিমেন্ট, এঙ্গেল দিয়ে একযোগে গোডাউন, ঘর,সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এতে বাদীপক্ষের লোকজনের বাধা প্রদানের একপর্যায়ে অবৈধ দখলদারেরা নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি- ধামকি দেয়। বর্তমানে বর্ণিত সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে বিবাদীদের দ্বারা মারপিট সহ শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় উল্লেখিত বিষয়টিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে গত ২১সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ও পৌর প্রশাসক বরাবরে পৃথক ভাবে লিখিত অভিযোগ করা হয়৷ অভিযোগকারীদের দেয়া তথ্যমতে তদুপরি নিজদলীয় প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় অবৈধভাবে কাজ শুরু করায় প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বলা হয় এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ সহ ন্যায় বিচারের জোর দাবি জানান ভুক্তভোগীরা ৷ এব্যাপারে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক প্রবীণ বাসিন্দা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমিদারের অধীন ধনু মোহাম্মদের ছেলে কফিল উদ্দিন ভোগদখলীকার থাকাকালে নগদ টাকার প্রয়োজনে বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে জমির উদ্দিন, তার পিতা আকালু মোহাম্মদ ও মাতা ছকিনা বেগম ১৯৭৭ সালে কোবালা দলিলমূলে উল্লেথিত জমি ক্রয় করে দখল গ্রহন , খারিজ ও খাজনাদি পরিশোধ করেন৷ পরবর্তীতে নিজ স্বত্ত্বে বর্ণিত সম্পত্তিতে ফলজ,বনজ ও সবজি চাষাবাদ করে ৪৫ বছরের উর্ধ্বকাল ভোগদখল করা অবস্থায় পিতা-মাতা মৃত্যুবরন করলে ফারায়েজ অনুযায়ী মৌখিক আপোষ বন্টনে ক্রয় ও ওয়ারিশ সূত্রে জমির উদ্দিন , ভ্রাতা সজির উদ্দিন ও ভগ্নী বেগমের অংশ সহ মোট ১ একর জমি প্রাপ্ত হয়৷ জমি পার্শ্ববর্তী বসবাসের সুবাদে জামাতা বাদশা মিয়া এই সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষন ও হালঢাষাবাদের একপর্যায়ে সর্বপ্রথম ২৫/০৭/ ২০২১ ইং ও সর্বশেষ ২০/১০/২০২২ইং তারিখ হতে প্রতিনিয়ত বিবাদের উদ্ভব হলে ২৪/১১/২০২২ ইং উল্লেখিত ২০/২২অন্য নং মোকদ্দমা দায়ের করা হয়৷
