মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী।গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জমি দখল, সন্ত্রাসী হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সাথে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু আলেম শেখ ও তার বাহিনীর সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ বুধবার (০১-অক্টোবর) বেলা ১১টায় আয়োজিত গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো: আসাদুজ্জামান। এ সময় মূল জমি বিক্রেতা আলমগীর শেখ ও ক্রেতা হেলেনা বেগমসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরা এবং জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে জানানো হয়, মুকসুদপুর থানাধীন ২৩ নং সুলতান দিঘীরপাড় মৌজার বিআরএস ৩৬ নং খতিয়ানের বিআরএস ১৭৬ নং দাগে ১০ শতাংশ জমির মূল মালিক কালু শেখের ছেলে আলমগীর শেখ। গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে (দলিল নং ১৭৬৮) একই গ্রামের মো: রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ ইবাদ হোসাইন, হেলেনা বেগম, আবু বক্কর সিদ্দিক ও আহাদ মুন্সি ওই জমি বৈধভাবে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন।
কিন্তু জমি বিক্রির পর থেকেই বিক্রেতা আলমগীর শেখের বড় ভাই আলেম শেখ অসৎ উদ্দেশ্যে উক্ত জমি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা শুরু করে। পরবর্তীতে আলেম শেখ তার সন্ত্রাসী বাহিনী ও সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ক্রেতাদের ওপর হামলা চালায় এবং জমি দখল করে নেয়। এতে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন, যার মধ্যে হেলেনা বেগমের স্বামী মো: আসাদুজ্জামান মারাত্মকভাবে জখম হন।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার দিন পুলিশের উপস্থিতিতেই আমাদের ওপর নির্মম হামলা চালানো হলেও পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীতে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই তারা মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমরা মুকসুদপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ নানা টালবাহানা করে মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে। এক পর্যায়ে পরে মামলাটি কাউন্টার মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। আমরা আরেকটি মামলা করতে গেলে মুকসুদপুর থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হলে মহামান্য আদালত মুকসুদপুর থানাকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে মুকসুদপুর থানা পুলিশ এখনও আদালত প্রেরিত সেই মামলা রুজু করেনি।”
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আলেম শেখ ও তার বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তারা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। মামলার অন্যতম আসামি দ্বীন ইসলাম সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হওয়ার সুবাদে পুলিশ তাদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জমি বিক্রেতা আলমগীর শেখ স্পষ্টভাবে জানান, উক্ত জমির প্রকৃত মালিক আমি নিজে এবং আমিই তা আইনগতভাবে বিক্রি করেছি। এখানে আমার ভাই আলেম শেখের কোনো অংশ বা হিস্যা নেই। সে ও তার ছেলেরা বেআইনিভাবে ও গায়ের জোড়ে জমিটি দখল করে রাখতে চায়।”
বর্তমানে আলেম বাহিনীর অব্যাহত হুমকি ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা অবিলম্বে চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, জমি ফেরত প্রদান এবং নিজেদের জীবন-মালের নিরাপত্তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাদীপক্ষ যেটা বলেছেন যে পুলিশের সামনেই তাদের মারপিটের ঘটনা ঘটেছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উনারা আদালতে মামলা করেছেন আদালত আমাকে ঘটনাটি তদন্ত করে এফআইআর এর নির্দেশ দিয়েছেন। আমি আমার থানার একজন এসআই কে দিয়ে তদন্তের কাজ চালাচ্ছি। তদন্ত শেষ হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
