সবুজ হোসেন, নওগাঁ:নওগাঁর পোরশা উপজেলার গাঙ্গুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) শাহ মোঃ ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দালালের মাধ্যমে ভূমি সেবা প্রদান, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, অসদাচরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গাঙ্গুরিয়া এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গাঙ্গুরিয়া বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই ভূমি অফিসে প্রতিদিন পোরশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভূমিসেবা নিতে আসেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, দালালের মাধ্যমে কাজ না করলে কিংবা অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক সেবাগ্রহীতাকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।
লিখিত অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তিকে তহশিলদারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করানোর অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব ব্যক্তির মাধ্যমে নামজারি, খারিজ, ডিসিআরসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়।
এ ছাড়া চেক কাটার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, অর্থ না দিলে নামজারির প্রস্তাব আটকে রাখা বা ভুল প্রস্তাব পাঠানো, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসদাচরণ এবং অফিসে বহিরাগত ব্যক্তিদের দিয়ে কম্পিউটারের কাজ করানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতি শনিবার অফিসে দালাল ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির উপস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ পরিচালনার পাশাপাশি খাবারের আয়োজন করা হয়। এ সময় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের কক্ষে বহিরাগতদের প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগও করা হয়েছে।
গাঙ্গুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত আরেক ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোছাঃ নাইমা আক্তারের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাকে পর্যাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় না এবং ফলে সেবাগ্রহীতারা বিকল্পভাবে তার কাছ থেকেও নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নামজারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং উপলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ। অভিযোগপত্রে একটি জমির দলিল পরিবর্তন করে নামজারি করার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মিস কেসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তহশিলদার ফরহাদ হোসেন শাহ দীর্ঘদিন ধরে পোরশা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, তার কাছে এসব অভিযোগের সমর্থনে বিভিন্ন নথি, অডিও ও ভিডিওসহ তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। তিনি এসব তথ্য যাচাই করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে গাঙ্গুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ হোসেন শাহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার অফিসে ব্যক্তিগত কোন সহকারী নেই এবং দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনার তো কোন প্রশ্নই আসে না। সকল অভিযোগ মিথ্যা।
পোরশা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা: নাবিলা ফেরদৌস বলেন, আমি এ উপজেলায় প্রায় দুই বছর কর্মরত আছি এখন পর্যন্ত লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ গাঙ্গুরিয়া-ছাওড় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শাহ মোঃ ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাইনি। কেউ হয়রানির স্বীকার হলে লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগকারী দ্রুত ওই কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নিশ্চিত হবে।
