রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ দীর্ঘ ৮ মাসের গ্যাস সংকট ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে ফিরেছে দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা লিমিটেড(জেএফসিএল)।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত কেপিআই-১ মানসম্পন্ন এই কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক এবং ডিলারদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য ও স্বস্তি।
কারখানা সূত্র জানাযায়,১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডিাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এই কারখানাটির নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়। চলতি বছরের ১৭ফেব্রুয়ারি অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষ এর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কারখানায় পুনরায় গ্যাস সংযোগ প্রদান করে। সংযোগ পাওয়ার পর কারখানার প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা দিনরাত পরিশ্রম করে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সফল ট্রায়াল শেষে মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) রাত ৩টা সময় থেকে কারখানাটি পুরোদমে ইউরিয়া সার উৎপাদনে প্রবেশ করে। তবে বর্তমানে গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত চাপ কিছুটা কম থাকায় দৈনিক উৎপাদন ১হাজার২০০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে।
যমুনা সার কারখানার বিভাগীয় প্রধান (উৎপাদন) ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ ৮ মাস পর সব বাধা কাটিয়ে মঙ্গলবার শেষ রাতে আমরা কাঙ্ক্ষিত ইউরিয়া উৎপাদনে যেতে পেরেছি। কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। আশা করছি খুব দ্রুতই দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ২০টিরও বেশি জেলার ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে গুণগত মানের সার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য,কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় জামালপুরসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার ডিলার ও সাধারণ কৃষকেরা মারাত্মক সার সংকটের আশঙ্কায় ছিলেন। কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় আসন্ন কৃষি মৌসুমে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
