সবুজ হোসেন, নওগাঁ:নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ-শাহাগোলা ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা।
অভিযোগকারী মো. লুৎফর রহমান, আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া আবেদনে দাবি করেন, জমির খাজনা পরিশোধের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে গিয়ে মোট ১২ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু এর বিপরীতে তাঁকে ৩ হাজার ৬০০ টাকার অনলাইন রসিদ দেওয়া হয়। বাকি ৮ হাজার ৪০০ টাকা কোন খাতে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সহকারী তহশিলদারকে ঘিরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ভূমি অফিসে দালালদের মাধ্যমে সেবা প্রদান এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত হয়ে আসছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, নওগাঁ, রাণীনগর ও দুপচাঁচিয়া এলাকায় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। এছাড়া তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, তার স্ত্রীকে চাকরি পাইয়ে দিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামাজিকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া সেগুলোকে সত্য ঘটনা হিসেবে দাবি করা যাচ্ছে না।
এছাড়া আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালদের অবাধ বিচরণ ও প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। অভিযোগকারীর দাবি, কিছু ব্যক্তি কোনো সরকারি নিয়োগ বা দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ভূমি অফিসে অবস্থান করে বিভিন্ন সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করছেন। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা পাওয়ার পরিবর্তে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী তহশিলদার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া সেন্টু নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি খাজনা আদায়ের অর্থ থেকে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার প্রস্তাব দেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগকারী তাঁর আবেদনে দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা, ভূমি অফিসে দালালদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এর আগে প্রকাশিত অভিযোগ প্রসঙ্গে আত্রাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান বলেছিলেন, “কেউ যদি দুর্নীতি করে তাহলে তার দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে। আমি কারো দায়ভার বহন করবো না। কেউ অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।”
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
