ঢাকাWednesday , 7 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নওগাঁয় উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে নিষেধ; যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মৎস্যজীবীকে মারধরের অভিযোগ

Mahamudul Hasan Babu
October 7, 2026 10:14 am
Link Copied!

সবুজ হোসেন, নওগাঁ:নওগাঁ সদর উপজেলার মনসুরের বিল, স্থানীয়ভাবে ‘বিল মনসুর’ নামে পরিচিত। প্রায় ৯০০ বিঘা সরকারি খাস সম্পত্তির এ জলাশয়টি বর্তমানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ বা ইজারা দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদিত মৎস্যজীবীরা এ উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

তবে সম্প্রতি বিল সংলগ্ন গয়েরপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু বাধা দেওয়াই নয়, এক মৎস্যজীবীকে মারধরেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা একত্রিত হয়ে নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নওগাঁ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।

মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, তারা সরকারি অনুমোদিত মৎস্যজীবী হিসেবে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে তাদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

মৎস্যজীবীদের অভিযোগের বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, সরকারি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে কোনো মৎস্যজীবী অন্যায়ভাবে বাধা বা মারধরের শিকার হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত মৎস্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, গয়েরপাড়া এলাকার যুবলীগের সবুজ নামের এক নেতা এক মৎস্যজীবীকে মারধর করেছেন এবং বিল থেকে মাছ ধরতে নিষেধ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজ উদ্যোগে বিলের খাস জায়গার একটি অংশে কাঁঠা/কাটা দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা করেছেন এবং সেখান থেকে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সবুজের সঙ্গে কথা বললে তিনি মৎস্যজীবীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মারধর করিনি। ওই মৎস্যজীবীর কলার ধরে ধাক্কা দিয়েছি।” একই সঙ্গে বিলের কিছু জায়গায় কাঠা/কাটা দেওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেন।

তবে কেন মৎস্যজীবীকে মাছ ধরতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি খাস জলাশয়ে কাঠা/কাটা দেওয়ার বিষয়ে তার আইনগত অবস্থান কী? এ বিষয়ে তার বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, মৎস্যজীবীরা বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষায় তাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। একই সঙ্গে একজন মৎস্যজীবীকে মারধরের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি, বিলটি যদি সরকারি খাস সম্পত্তি ও উন্মুক্ত জলাশয় হয়ে থাকে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বৈধভাবে ইজারা দেওয়া না হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে তাদের মাছ ধরার অধিকার নিয়ে যেন কেউ ব্যক্তিগতভাবে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। একই সঙ্গে মারধরের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত চান তারা।

এ ঘটনায় থানায় দেওয়া অভিযোগের তদন্ত, বিলের প্রকৃত ইজারা/ব্যবস্থাপনা অবস্থা এবং মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার আইনগত অধিকার সবকিছু যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।