ঢাকাThursday , 8 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাংনী সরকারী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের খুঁটির জোর কোথায়! আদালতের রায় উপেক্ষা করে বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষের চেয়ারে

Mahamudul Hasan Babu
October 8, 2026 11:10 am
Link Copied!

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর প্রতিনিধি:গাংনী সরকারী ডিগ্রী কলেজের ¯^ঘোষিত অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামের খুঁটির জোর কোথায় ? আদালতের রায় অবমাননা করে বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে | এসব দেখার কি কেউ নেই| গাংনী সরকারী ডিগ্রী কলেজের ¯^ঘোষিত অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ¯ে^চ্ছাচারিতা কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে|
এছাড়াও তিনি আদালতের রায় অমান্য করে ¯^পদে বসে রয়েছেন| জানা গেছে, অধ্যক্ষ আদালতে যোগদৃানকৃত অধ্যক্ষকে চ্যালেঞ্জ কওে আদালতে রুল জারি করিয়েছিলেন তিনি আবসরে চলে গিয়েছেন| সেকারনে বাদী বা পিটিশনার তার ঐ পদে থাকতে পারবেন না| আগে রুল নিশির কারনে হয়তো সাময়িকভাবে পদে ছিলেন| কিন্তু এখন রুল খারিজ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২/৮/২০১৬ তারিখের যে সংযুক্তির আদেশ ছিল সেটাই বহাল থাকবে| অর্থ্যাৎ রেসপন্ডেন্ট নং ৫ যাকে অধ্যক্ষের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছিল , তার অবসরের পর পদটি খালি থাকলে কর্তৃপক্ষ নতুন করে নিয়োগ বা সংযুক্তির সিদ্ধান্ত নিতে পারবে| বাদীকে আগের মত বহাল রাখার জন্য আলাদা কোন আদেশ আর নেই| তিনি কেন থাকতে পারবেন না, তারও ৩ টি কারন উল্লেখ করা হয়েছে| ১ নং কারন- রুল নি®ফল হয়ে গেছে| আদেশে স্পষ্ট বলা আছে, এই রুলটি এখন নিষ্ফল হয়ে গেছে| মানে কোর্টেও যে অস্থায়ী আদেশ ছিল সেটা আর কার্যকর নেই| ২ নং কারন- রুল খারিজ হয়ে গেছে| প্রসিকিউশন না করার কারনে খারিজ করা হয়েছে| ৩ নং কারন- রেসপন্ডেন্ট নং ৫ অবসরে চলে গেছেন|

গাংনী উপজেলা সদরে অবস্থিত সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ গাংনী সরকারি ডিগ্রী কলেজ| কলেজটি গড়ে উঠে ১৯৮৩ সালে| সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠাকালীন সিনিয়র শিক্ষকগণ অবসরে চলে গেছেন| ইতোমধ্যেই সরকারী ঘোষনা অনুযায়ী গাংনী ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করণের আওতায় এসেছে| বিগত ২০১৬ সালের ১৬ মে তারিখে কলেজটি জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত হয়| বর্তমানে কলেজে শিক্ষক কর্মচারী মিলে (মনিটরিং বোর্ড অনুযায়ী) ৫৫ জন এমপিও ভুক্ত এবং ৩২ জন নন-এমপিও ভুক্ত সর্বমোট ৮৭ জন স্টাফ রয়েছে|
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কলেজ সরকারীকরণের কারণ দেখিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে| এরপর থেকে দফায় দফায় শিক্ষা বোর্ডে ফাইল জমা দিতে উৎকোচ দেয়ার নামে জন প্রতি ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে| এছাড়াও কলেজের হিসাব রক্ষণের কাজ একজন পিয়ন দিয়ে চালানো হচ্ছে| প্রতিনিয়ত কলেজের হিসাব-নিকাশ অধ্যক্ষের পকেটে থাকছে| ব্যাংক হিসাবে জমা খরচ হচ্ছে না| আরও জানা গেছে, অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম কলেজের ৪ জন প্রভাবশালী শিক্ষককে নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ¯ে^চ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন| পাশাপাশি সরকারী করণের নামে এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে ডিও লেটার নিতে ৫০ লাখ টাকা এবং শিক্ষাবোর্ডে ৫০ লাখ টাকা উৎকোচ দেয়া হয়েছে বলে অধ্যক্ষ স্টাফদের জানিয়েছেন| ইতোমধ্যেই তিনি আত্মসাৎকৃত টাকায় গাংনী পৌর শহরে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলীসান দ্বিতল বাড়ী, ঢাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাট বাড়ি ক্রয় করেছেন, এবং চেংগাড়া জোড়পুকুরিয়া মাঠে ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন| তিনি বেশীরভাগ সময় ঢাকাতে অবস্থান করেন|
কলেজ সরকারী হলে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাবেন না এবং ৩২ জনের চাকুরী কোনদিনও এমপিওভুক্ত হবে না জেনে শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি করছেন| সরকারী করণের নামে বার বার টাকা উত্তোলন করে নন এমপিও শিক্ষকদের সাথে টালবাহানা করা হয়েছে| আরও জানা গেছে, এসব টাকা সংগ্রহে শিক্ষকদের দিয়ে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হলেও তাদের টাকা ফেরত দেয়া হয়নি| ফলে সেসব শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন|এছাড়াও অধ্যক্ষের যোগসাজশে কলেজের ভবন নির্মানে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে| কলেজে শিক্ষক কর্মচারী উপস্থিত না থাকায় ঠিকমত ক্লাস হয় না | ফলে কলেজের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে , ফলাফল বিপর্যয় ঘটছে| কলেজে ভর্তি, ফরম পূরণ,পরীক্ষা ফিস গ্রহন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত টাকা নেয়া অভিযোগ রয়েছে|
কলেজ জাতীয়করণের সময় ডিজি (শিক্ষা) মহোদয়ের অডিটে ৬৭ জন স্টাফের নামের তালিকা প্রণয়ন করা হয়| এরপর আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ৮৭ জনকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে|পরবর্তীতে সরকারী বিধিমোতাবেক আতাউল হক খান চৌধুরী মহোদয় অধ্যক্ষ হিসাবে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই যোগদান করেন|তার সাথে কলেজের ¯^ঘোষিত অধ্যক্ষের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অসহযোগিতার কারণে তিনি কলেজ ত্যাগ করেন| এরপর আবারও কলেজের অধ্যক্ষের শূন্যপদে লিটন মোল্লা ২০১৬ সালের ৮ আগষ্ট যোগদান করে পূর্বের ন্যায় অনিয়ম দুর্নীতিরোধে ব্যর্থ হয়ে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কলেজ ত্যাগ করেন| সুযোগ বুঝে বর্তমানে কলেজের ইনচার্জ (অধ্যক্ষ) মনিরুল ইসলাম বিভিন্ন শাখা দেখিয়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে উৎকোচ নিয়ে ৩২ জন শিক্ষক কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়|এই উৎকোচের প্রায় ৩ কোটি টাকা ¯থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশে সিন্ডিকেট গড়ে অর্থ লোপাট করেছে|

এব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সচেতন মহলের|