এস এম মনির বিশেষ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মরা চেলা নদী ও সংলগ্ন বন বিভাগের জায়গা থেকে দিন-রাত বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন ও বালুবাহী নৌকা ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার বালু লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ এই বালু কারবারের ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সোনাপুর, পূর্ব সোনাপুর এবং কাজিরগাঁও, কলাবাগান ও রহমতপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কোনো অনুমোদন বা ইজারা না থাকা সত্ত্বেও চিহ্নিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বন বিভাগের শত শত একর জমি দখল করে নিয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত করে এবং তীর কেটে ড্রেজার বসিয়ে অনবরত বালু তোলায় নদীর ভূ-প্রকৃতি ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, একসময় ‘গেদুর ঢালা’ খাল দিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে কিংবা স্বল্প পানিতে সহজেই পারাপার হতে পারত। কিন্তু অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সেই সাধারণ খালটি এখন গভীর ও বিপজ্জনক নদীর আকৃতি ধারণ করেছে। প্রতিদিন নদীর পাড় কেটে ড্রেজার দিয়ে গভীর থেকে বালু তোলায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।
দিন-রাত শত শত ড্রেজার মেশিন ও বালুবাহী নৌকার ইঞ্জিনের বিকট শব্দে পুরো সোনাপুর ও কাজিরগাঁও এলাকা মুখরিত থাকে। ফলে তৈরি হয়েছে মারাত্মক শব্দদূষণ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটানা বিকট শব্দের কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতে ঘুমাতে না পেরে দিন দিন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরে চোখের সামনে এমন পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের ছত্রচ্ছায়ায় সিন্ডিকেটটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে পরিবেশের এমন অপূরণীয় ক্ষতির বিষয়টি নজরে আসার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মামলা হলেও সরেজমিনে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের দেওয়া একটি তালিকায় রয়েছে। মোঃ মুহিবুর রহমান -পিতাঃ মছদ্দর আলী,দৌলতপুর, আঃনুর -চাইরগাঁও’- হীরন মিয়া -পুর্ব চাইরগাঁও- মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা , পিতাঃমৃত বদরুল আলম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ফখরুল ইসলাম, পিতাঃ মৃত সামছুল ইসলাম- খলিলুর রহমান, পিতাঃ মৃত আকরাম আলী পোস্ট মাস্টার, নিজাম উদ্দিন, মোঃ রুবেল মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি বকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন মেম্বার, মোঃ আমির হোসেন,আজিজুর রহমান, আলী নুর, আমিনুর রহমান, পিতাঃময়না মেম্বার,ইমরান আহমদ – পিতা: স্বপন মিয়া – পূর্ব সোনাপুর মাসুক মিয়া – পিতা: ফজলু মিয়া – [পূর্ব সোনাপুর] নুর আলী – পিতা: ফজলু মিয়া -[পূর্ব সোনাপুর] ফারুক মিয়া – পিতা: আজর আলী – রহমতপুর আঃ রহিম – পিতা: তোতা মিয়া -[রহমতপুর] নাছির উদ্দিন – পিতা: ছমরু মিয়া [রহমতপুর] জামিল আহমদ – পিতা: ফারুক মিয়া – [রহমতপুর] ইউনুছ আলী – পিতা: ইসমত আলী [রহমতপুর] আশরাফ উদ্দিন – পিতা: আঃ ছত্তার – [রহমতপুর] মনির উদ্দীন-পিতাঃআঃআজিদ মন্তাজনগর, ফিরোজ মিয়া – পিতা: মফচ্ছর আলী – রহমতপুর , আজাদ মিয়া – পিতা: আঃ বারী – দৌলতপুর মাফিজ আলী-পিতাঃহাইমুল্লাহ। ফরিদ মিয়া – পিতা: আজিজুর রহমান – রহমতপুর, মোঃ স্বপন মিয়া – পিতা: ফজলু মিয়া – পূর্ব সোনাপুর আলী নূর – মৃত জবান আলী – রহিমের পাড়া , শাহেদ মিয়া – জিলু মিয়া -[রহিমের পাড়া]
আলিম উদ্দিন – ইসলাম উদ্দিন – দৌলতপুর, মোঃ আব্দুর রউফ’ ইজাজুল হক রনি -পিতাঃশরীফ মিয়া,
চেনু মিয়া (৪০) পিতা- মৃত রইস আলী, সাং-পূর্ব সোনাপুর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ ১৫. জামশেদ মিয়া (৬২), পিতা- মৃত ফজলুর রহমান, সাং-হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ-দ্বীন ইসলাম (৪৫), পিতা- অজ্ঞাত,
এদিকে নদী রক্ষার বিষয়টি নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা অর্থাৎ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল আশ্বাস দিয়ে বলেন, মরা চেলা নদীর এই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের পূর্ণ নজরে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন কঠোরভাবে বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং অচিরেই যারা এর পেছনে জড়িত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিয়মিত অভিযান চলছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—অবিলম্বে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক, বন বিভাগের জমি উদ্ধার করা হোক এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনা হোক।
