সবুজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি:নওগাঁর মান্দায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক বৃদ্ধের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মো. জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও মোহনপুর ও মান্দা থানায় তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা মীর মো. আনোয়ার হোসেন (৬২) তাঁর ছেলের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে পূর্বপরিচিত এক নারীর মাধ্যমে গত ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে যান। অভিযোগ, সেখানে আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখা জাকারিয়াসহ অন্য আসামিরা তাঁকে মারধর করেন। পরে অপর এক নারী আসামির সঙ্গে জোরপূর্বক অশ্লীল ও নগ্ন ছবি এবং ভিডিও ধারণ করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ধারণ করা ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়।
পরে চাঁদার টাকা দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজন একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মান্দা থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের পর মান্দা থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।
