শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:দীর্ঘ ২৯ বছরের রাজনৈতিক পথচলা, একের পর এক মামলা, কারাবরণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা—সবকিছু পেছনে ফেলে নতুন করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম পিন্টু। রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন তিনি নিজের অবস্থান পুনর্গঠন করে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান। দলীয় নেতৃত্বের সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ প্রত্যাশা করছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম পিন্টুর ভাষ্য, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। সর্বশেষ একটি রাজনৈতিক মামলায় গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সঙ্গে তিনিও আসামি হন। ওই মামলায় বাচ্চু ভাই ছিলেন এক নম্বর আসামি এবং তিনি নিজে ছিলেন ১৬ নম্বর আসামি বলে জানান পিন্টু।
তিনি বলেন, মামলায় বাচ্চু ভাই কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর রাজপথ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে যাওয়ার প্রায় ১০ দিন পর মাওনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক ফজলুও গ্রেপ্তার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে যান। কারাগারে তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁরা মুক্তি পান বলে জানান পিন্টু।
তাঁর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা-মোকদ্দমা, আর্থিক ক্ষতি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে যাননি। এখন তাঁর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
সম্প্রতি নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সমস্যায় পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন পিন্টু। তাঁর দাবি, প্রায় ১৫ দিন ধরে তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রাহককে না জানিয়ে মিটার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। বিষয়টি গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করেও সমাধান পাননি বলে দাবি তাঁর।
পিন্টুর অভিযোগ, নিজের সমস্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি উল্টো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, শ্রীপুরের রাজনীতিতে এখন ত্যাগের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান থাকা সত্ত্বেও যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর জাহাঙ্গীর আলম পিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিভিন্ন মামলায় তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা এখনো রয়েছে বলে তিনি জানান। এসব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা যাবে।
রাজনৈতিক জীবনের বিতর্ক ও প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে নতুনভাবে পথ চলতে চান পিন্টু। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নির্দেশনায় মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ প্রত্যাশা করছেন তিনি।
পিন্টুর প্রত্যাশা, অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে আবারও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের সেবা, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল নয়।
