ঢাকাTuesday , 20 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় আট বছর ধরে  জেনারেটর নষ্ট ।

Mahamudul Hasan Babu
October 20, 2026 1:13 pm
Link Copied!

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর প্রতিনিধি:মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় আট বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে জেনারেটর। হাসপাতালের দোতলায় ওঠার সিঁড়ির নিচে একটি তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে রয়েছে এটি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় দরজার তালায়ও ধরেছে মরিচা। অথচ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরটি চালু থাকার কথা। ফলে লোডশেডিং হলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের। কখনো কখনো চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে রোগী দেখতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেনারেটরটি সাত থেকে আট বছর ধরে নষ্ট রয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে বিকল্প হিসেবে একটি আইপিএস ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে রোগীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর মেরামত না হওয়া কর্তৃপক্ষের উদাসীনতারই পরিচয়। মেহেরপুরের গাংনী একটি বৃহৎ উপজেলা। এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। অনেকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে, বিশেষ করে গরমের সময়, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। দ্রুত জেনারেটরটি সচল করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ফাতেমা খাতুন বলেন, “গতকাল শুক্রবার রাতে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি থাকলে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের অস্বস্তি চরমে ওঠে। আমি কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপও রয়েছে। হাসপাতালে যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে, সে বিষয়টি দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।”

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাসানুজ্জামান বলেন, “হাসপাতালে লোডশেডিং হলে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। শুনেছি, হাসপাতালে জেনারেটর আছে, কিন্তু সেটি সাত থেকে আট বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই হয়তো এমন অবস্থা হয়েছে। জেনারেটরটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় সেটি আরও নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, মানুষ যেন একটু স্বস্তিতে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে, সে জন্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে নজর দিন।”

মোছা. সামিয়া সুলতানা বলেন, “কিছুদিন আগে আমার বোনের মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে থাকতে অনেক কষ্ট হয়েছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। আমরা জানি, হাসপাতালে জেনারেটর রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে অন্তত সেটি চালু থাকার কথা। কিন্তু সারা রাতেও জেনারেটর চালাতে দেখিনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দিকে সুনজর দেওয়া।”

রোগীর স্বজন রাজু আহমেদ বলেন, “দিনে বা রাতে যখনই বিদ্যুৎ চলে যায়, তখনই রোগীদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়। হাসপাতালে বিকল্প হিসেবে অন্তত জেনারেটর অথবা আইপিএসের ব্যবস্থা থাকা দরকার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভালো চিকিৎসা পাওয়া গেলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের কষ্ট কম নয়। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবেন।”

এদিকে গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) ফয়সাল হোসেন জানান, তাঁদের বিদ্যুতের চাহিদা ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মোট ১০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, “রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। যে সময়টুকু বিদ্যুৎ থাকে না, সে সময় রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেনারেটর অথবা আইপিএস থাকা দরকার। বর্তমানে এখানে একটি আইপিএস রয়েছে, যা দিয়ে জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের জন্য জেনারেটর অথবা অতিরিক্ত আইপিএস প্রয়োজন। বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক সময় মোবাইল ফোনের টর্চের আলো জ্বালিয়েও রোগী দেখতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের অফিস সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, জেনারেটরটি সাত থেকে আট বছর ধরে নষ্ট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁরা দ্রুত এটি মেরামতের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।”

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, “গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। উপজেলার অধিকাংশ রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। লোডশেডিং হলে ভর্তি রোগীদের অনেক কষ্ট হয়। তাই হাসপাতালে কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।”