বাদশা আলম, বগুড়া : সম্প্রতি সংসদে বিল আকারে পাশ হওয়া ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর এলাকায়ই প্রস্তাবিত স্থানেই প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশ করেছে স্থানীয়রা। এসময় ঢাকা- বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। পরে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
মঙ্গলবার(২১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় শাজাহানপুর, গাবতলী, শেরপুর, ধুনট ও নন্দীগ্রাম উপজেলার বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় জনগণ অংশ নেন। অবরোধের কারণে কয়েক ঘণ্টা ঢাকা- বগুড়া মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে বেলা ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপনের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়
সমাবেশে বক্তব্য দেন আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুল হালিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় প্রায় ২৫ বছর আগে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর এলাকায় বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, মনোরম পরিবেশ, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, নির্মাণাধীন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের সম্ভাবনা এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-এর নিকটবর্তী অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বক্তারা আরও বলেন, শাজাহানপুরের জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার, স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের আবেদন করা হলেও সংশ্লিষ্ট ফাইল দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি হয়নি। প্রস্তাবিত স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত জামালপুরেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
জানা যায়, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফর শেষে ফেরার পথে জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত ১৪ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশন হয়। বাজেটের ২৪তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।এর মাধ্যমে ২০০১ সালের বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন বাতিল করা হয়েছে।
নতুন আইনে বগুড়া জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কলা, সমাজবিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞান সৃষ্টি ও জ্ঞান বিস্তারের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাশাপাশি এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, পেশাগত দক্ষতা, গবেষণা এবং অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আইন অনুযায়ী শিল্প, বাণিজ্য, সমাজ ও অর্থনীতি-সংশ্লিষ্ট স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সও চালু করা যাবে। অনলাইন দূরশিক্ষণ ও ক্যাম্পাসভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে এসব কোর্স পরিচালনা করা হবে।
