সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অফিস সহায়ক সরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা, শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালাবদ্ধ। ডিজিটাল শিক্ষার জন্য বরাদ্দ ল্যাপটপও পড়ে আছে প্যাকেটবন্দি অবস্থায়। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে শিক্ষকরা জানান, খাতাটি প্রধান শিক্ষক নিজের কক্ষে রেখে তালাবদ্ধ করে গেছেন। এ সময় প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের স্বামী ফাইমও উপস্থিত ছিলেন না।
বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাঁরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী পাস করে। ২০২৬ সালেও এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র একজন। বছরের পর বছর শিক্ষার্থী সংকট চলতে থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কী ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ডিজিটাল শিক্ষার জন্য বরাদ্দ ল্যাপটপ প্যাকেটবন্দি পড়ে থাকায় শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, “এই বালিকা বিদ্যালয় এলাকার মেয়েদের শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার পরিবেশ ভালো না হওয়ায় অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের স্কুল থেকে বিমুখ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪ জন একই পরিবারের। প্রধাণ শিক্ষিকার স্বামী শরীর চর্চা শিক্ষক, ভাই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং ভাইয়ের মেয়ে আয়া। এ প্রতিষ্ঠানটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারনে শিক্ষার মান ভাল হচ্ছে না। অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থী সংকট দীর্ঘদিন ধরে চললেও ঊর্দ্ধতনদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। শুধু শিক্ষার্থী কম বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে কি না এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরের ছবির ফোনে ফোন দিলে শরীরচর্চা শিক্ষক মাহফুজার রহমান ওরফে ফাহিম ছবি মুঠোফোন রিসিভ করে বলেন, “আমরা জেলা পরিষদে আছি।” অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কি করার আছে আপনাদের করেন। আমি কিছু বলতে পারবো না।”
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, “আমি আজকেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে ওই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলব।”
—
