ঢাকাFriday , 6 November 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কেউ কি দেখার নেই! বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি গাংনী সরকারী ডিগ্রী কলেজের স্বঘোষিত দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামের অপসারণ এখন সময়ের দাবি !

Mahamudul Hasan Babu
November 6, 2026 1:27 pm
Link Copied!

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি গাংনী সরকারী ডিগ্রী কলেজের স্বঘোষিত দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামের অপসারণ এখন সময়ের দাবি। আদালতের রায় অবমাননা করে বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে । এসব দেখার কি কেউ নেই। স্বঘোষিত অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও তিনি আদালতের রায় অমান্য করে স্বপদে বসে রয়েছেন। গাংনী উপজেলা শাখার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মানেজ করে মাসোহারা দিয়ে বহাল তবিয়তে চেয়ারে বসে রয়েছেন।
গাংনী উপজেলা সদরে অবস্থিত সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ গাংনী সরকারি ডিগ্রী কলেজ। কলেজটি গড়ে উঠে ১৯৮৩ সালে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠাকালীন সিনিয়র শিক্ষকগণ অবসরে চলে গেছেন। ইতোমধ্যেই সরকারী ঘোষনা অনুযায়ী গাংনী ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করণের আওতায় এসেছে। বিগত ২০১৬ সালের ১৬ মে তারিখে কলেজটি জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কলেজ সরকারীকরণের কারণ দেখিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর থেকে দফায় দফায় শিক্ষা বোর্ডে ফাইল জমা দিতে উৎকোচ দেয়ার নামে জন প্রতি ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে। এছাড়াও কলেজের হিসাব রক্ষণের কাজ একজন পিয়ন দিয়ে চালানো হচ্ছে।জানা গেছে, বর্তমানে মিলন নামের একজন অফিস সহায়ক কলেজের সমুদয় আয় ব্যয় দেখাশুনা করে থাকে। প্রতিনিয়ত কলেজের হিসাব-নিকাশ অধ্যক্ষের পকেটে থাকছে। ব্যাংক হিসাবে জমা খরচ হচ্ছে না। আরও জানা গেছে, অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম কলেজের ৪ জন প্রভাবশালী শিক্ষককে নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারী করণের নামে এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে ডিও লেটার নিতে ৫০ লাখ টাকা এবং শিক্ষাবোর্ডে ৫০ লাখ টাকা উৎকোচ দেয়া হয়েছে বলে অধ্যক্ষ স্টাফদের জানিয়েছেন। ইতোমধ্যেই তিনি আত্মসাৎকৃত টাকায় গাংনী পৌর শহরে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলীসান দ্বিতল বাড়ী, ঢাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাট বাড়ি ক্রয় করেছেন, এবং চেংগাড়া জোড়পুকুরিয়া মাঠে ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। তিনি বেশীরভাগ সময় ঢাকাতে অবস্থান করেন।

কলেজ সরকারী হলে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাবেন না এবং ৩২ জনের চাকুরী কোনদিনও এমপিওভুক্ত হবে না জেনে শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি করছেন। সরকারী করণের নামে বার বার টাকা উত্তোলন করে নন এমপিও শিক্ষকদের সাথে টালবাহানা করা হয়েছে। আরও জানা গেছে, এসব টাকা সংগ্রহে শিক্ষকদের দিয়ে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হলেও তাদের টাকা ফেরত দেয়া হয়নি। ফলে সেসব শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।জানা গেছে, কলেজের অফিস সহায়ক আজিবার রহমান তার চাকুরীর বয়স শেষ হলেও আবারও দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম নতুন করে আইডি করে চাকরির সময় বর্ধিত করণের পায়তারা করছে।গাংনী উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে মোটা অংকের টাকা দিয়ে নতুন আইডি করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এমনিভাবে কলেজের বেশ কয়েকজনকে সরকারি করণের আশ্বাস দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। শাহনাজ পারভীন ও লতিফা খানম নামের দুজনকে অফিস সহায়ক হিসাবে দীর্ঘদিন যাবত নানা অযুহাত দেখিয়ে হয়রানি করছে। অফিস সহায়ক মিলন,আসাদ ও আলেয়া খাতুনকে দিনের পর দিন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মাষ্টার রোলে মাসিক ৬/৭ হাজার টাকা দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। একইভাবে কলেজের হিসাব রক্ষক রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন কলেজে উপস্থিত না থাকলেও জামাই সম্পর্কেও কারনে নিয়মিত তার বেতন ভাতা উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

কলেজে শিক্ষক কর্মচারী উপস্থিত না থাকায় ঠিকমত ক্লাস হয় না । ফলে কলেজের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে , ফলাফল বিপর্যয় ঘটছে। কলেজে ভর্তি, ফরম পূরণ,পরীক্ষা ফিস গ্রহন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত টাকা নেয়া অভিযোগ রয়েছে।
কলেজ জাতীয়করণের সময় ডিজি (শিক্ষা) মহোদয়ের অডিটে ৬৭ জন স্টাফের নামের তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এরপর আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ৮৭ জনকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।পরবর্তীতে সরকারী বিধিমোতাবেক আতাউল হক খান চৌধুরী মহোদয় অধ্যক্ষ হিসাবে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই যোগদান করেন।তার সাথে কলেজের স্বঘোষিত অধ্যক্ষের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অসহযোগিতার কারণে তিনি কলেজ ত্যাগ করেন। এরপর আবারও কলেজের অধ্যক্ষের শূন্যপদে লিটন মোল্লা ২০১৬ সালের ৮ আগষ্ট যোগদান করে পূর্বের ন্যায় অনিয়ম দুর্নীতিরোধে ব্যর্থ হয়ে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কলেজ ত্যাগ করেন। সুযোগ বুঝে বর্তমানে কলেজের ইনচার্জ (অধ্যক্ষ) মনিরুল ইসলাম বিভিন্ন শাখা দেখিয়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে উৎকোচ নিয়ে ৩২ জন শিক্ষক কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়।এই উৎকোচের প্রায় ৩ কোটি টাকা ¯থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশে সিন্ডিকেট গড়ে অর্থ লোপাট করেছে।

এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে দুদকের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ বলে দাবি সচেতন মহলের।