লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৬নং পাটারীরহাট ইউনিয়নে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। হাটে-ঘাটে, মাঠে কিংবা চায়ের দোকানে এখন একটাই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন পাটারীরহাট ইউপির আগামী দিনের অভিভাবক?
স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে এরই মধ্যে জোর আলোচনায় উঠে এসেছেন লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও ত্যাগী বিএনপি নেতা এডভোকেট মোহাম্মদ সেলিমের নাম।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাষ্টার মো. হোসেন চেয়ারম্যান ও সাবেক সফল চেয়ারম্যান আলমগীর মাস্টারের পরিবারের সন্তান এডভোকেট সেলিম ইতোমধ্যে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় ও গণসংযোগ শুরু করেছেন। পরিবারটির দীর্ঘদিনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসেবার ইতিহাস তাকে সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য পরিচিতি এনে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে যেমন তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন, তেমনি পারিবারিক ও সামাজিক ঐক্যের শক্তিতে ভোটের মাঠেও তিনি এক প্রভাবশালী প্রার্থী।
স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে, রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য এক করে মাঠে নামলে এবার পাটারীরহাটে নতুন এক চমক সৃষ্টি হতে পারে।
প্রার্থীর যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা নিয়ে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক মনোভাব।
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, আলমগীর মাস্টার চেয়ারম্যান থাকাকালে এলাকার মানুষের প্রভূত উন্নয়ন করেছেন। ওই পরিবারের সন্তান সেলিম একজন সৎ, পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত মানুষ। তিনি চেয়ারম্যান হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
প্রান্তিক জেলে সাইফুর রহমানের মতে, পাটারীরহাটে এখন একজন শিক্ষিত ও আইনি বিষয়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন। এডভোকেট সেলিম ভাই অত্যন্ত দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ। জেলে সমাজ এমন ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকেই তাদের পাশে চায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ জানান, আমরা তরুণরা পরিচ্ছন্ন পরিবর্তন চাই। ফলকন উচ্চবিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিনি প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে যুবসমাজ মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত একটি আদর্শ ইউনিয়ন পাবে।
গৃহিণী রাবেয়া বেগম বলেন, আলমগীর চেয়ারম্যানের পরিবারের প্রতি আমাদের দীর্ঘদিনের আস্থা। তারা বিপদে-আপদে সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেলিম ভাই প্রার্থী হলে আমরা সাধারণ নারীরা তাকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেব।
ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এডভোকেট সেলিম ১৯৯৩ সালে ফলকন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৫ সালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে স্নাতক এবং ২০১২ সালে ঢাকার প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টে আইন পেশায় সফলভাবে নিয়োজিত রয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় তিনি কখনো দলবিচ্যুত হননি। অতীতে তিনি ৫নং চরফলকন ইউনিয়ন ছাত্রদলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নির্বাহী সদস্য, ৬নং পাটারীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির একমাত্র যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং কমলনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ৬নং পাটারীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন।
নিজের প্রার্থিতা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এডভোকেট মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আমার পরিবার সর্বদাই পাটারীরহাটের মানুষের সুখে-দুঃখের সাথী হয়ে কাজ করেছে। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে কখনো দলবিচ্যুত হইনি। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ভালোবাসাই আমার প্রধান শক্তি। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে এবং জনগণ সুযোগ দেয়, তবে ৬নং পাটারীরহাট ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।
