ঢাকাMonday , 2 November 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাগুরায় মধুমতী নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

Mahamudul Hasan Babu
November 2, 2026 11:11 am
Link Copied!

মোঃ সাইফুল্লাহ ,মাগুরা প্রতিনিধি: মাঝিদের বৈঠার ছন্দ, কাঁসার ঘণ্টার ধ্বনি আর হেঁইও রবে মুখরিত মাগুরার মহম্মদপুরের মধুমতি নদী। নদীর বুকে রঙিন নৌকার প্রতিযোগিতা, দুই তীরে লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস- সব মিলিয়ে উৎসবের নগরে পরিণত হয় মাগুরার মহম্মদপুর। এই নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে ঘিরে রোববার ১ নভেম্বর রবিবার বিকেলে মধুমতি নদীর দুই পাড়ে নামে লাখো দর্শনার্থীদের ঢল।

মাগুরা ছাড়াও আশপাশের ফরিদপুর,নড়াইল ও যশোর জেলা ও উপজেলা থেকেও নানা বয়সী মানুষ নৌকাবাইচ দেখতে আসেন। এ সময় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে নদীর দুই তীর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ছুটে আসেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মেলা প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে। স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত এ নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে দুই দিন আগে থেকেই মধুমতি নদীর দুই পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। বিকেলে নৌকাবাইচ শুরু হলে নদীর বুকে তৈরি হয় প্রতিযোগিতার উত্তেজনা। মাঝি-মাল্লাদের সমন্বিত বৈঠার টানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে রংবেরঙের নৌকাগুলো। কাঁসার ঘণ্টার শব্দ আর মাঝিদের হেঁইও রবে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। এক নৌকাকে পেছনে ফেলে অন্য নৌকার এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দর্শকদের উল্লাস ও করতালিতে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যা চলে রাত পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা‌ -২ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আয়োজকদের মধ্যে নৌকাবাইচ ও মেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা বলেন, অনেক দিন পর মহম্মদপুরবাসী এমন আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করছেন। নদীর দুই পাড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এবং তাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখে ভালো লাগছে।

প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা‌ -২ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ মেলা ও ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ধরে রাখার চেষ্টা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ উৎসব আমাদের শেকড়ের পরিচয়। গ্রামীণ মেলা ও ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এগুলো আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিযোগিতা শেষে রাতে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। নৌকা বাইচ শেষ হলেও মেলা চলবে আরো কয়েকদিন।