আবু সালমান রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুল মালেকের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলা করে চলে যাওয়ার সময় গোয়ালঘর থেকে বাছুরসহ গরু, ঘরে রাখা ধান-চাল, সয়াবিন এবং একটি ড্রেজার মেশিনসহ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ওই বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাইদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে ভুক্তভোগী আব্দুল মালেকের চাচাতো ভাই সৈয়দ মেম্বারের ছেলে সেকান্তর ফরিদ, সাদ্দাম সহ কয়েকজন লোক জমি দখলের উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বসতঘরে কুপিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি গোয়ালঘর থেকে বাছুরসহ একটি গরু, ধান-চাল, সয়াবিন ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় সেকান্তর মেম্বারের লোকজনের মধ্যে সৈয়দ মেম্বাররের ছেলে সাদ্দাম ও মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক জানান, অভিযুক্তরা তাঁর চাচাতো ও জ্যাঠাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা তাঁদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন এবং জমিজমা জবরদখল করে ভোগ করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ, সেনাবাহিনীর দপ্তরে বৈঠক, থানায় সালিশ এবং আদালতের রায়েও তাঁরা জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপরও অভিযুক্তরা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জমি জবরদখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
ভুক্তভোগী আবুল হাশেমের ছেলে উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক জাবের হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘জামায়াত নেতার কোটি টাকার বালু বাণিজ্য’ শিরোনামে অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। তিনি এসব সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট ও তথ্যহীন দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং সংবাদ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেকান্তর মেম্বার বলেন, আমাদের পারিবারিক কিছু জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে যার মামলা আদালতে চলমান রয়েছে, এবং আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছে তা সঠিক নয় আমি লুটপাট করি নাই।
মোহাম্মদ শেখ ফরিদ বলেন তারা আমার জমি থেকে বালু উত্তোলন করছে, মামলা নিষ্পত্তি হয়ে নাই, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছে তা মিথ্যা।
তুমি
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার বিষয়ে এখনো কোনো সংবাদ পাননি। থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
