আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি : মেহেরপুরে নিষিদ্ধ পাবজী ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে কারাদন্ড প্রদান করেছেন আদালত|
বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযুক্ত মোস্তফা আল মুজাহিদ ও জুনায়েদ ইসলাম হামিমকে ১০ বছর ও ৭ বছর করে শিশু আইনে কারাদন্ডসহ ৫ লাখ টাকা করে অর্থ জরিমানা করা হয়|
এসময় মোস্তফা আল মুজাহিদ ১০ বছর সাজা ও জুনায়েদ ইসলাম হামিমকে ৭ বছর কারাদন্ড প্রদান করেন বিচারক আলী মাসুদ শেখ| দণ্ডপ্রাপ্ত দুই কিশোর জেলার গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ ও নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম|
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন|
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালে ২৬ জুন বিকালে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই কিশোর মালয়েশিয়া প্রবাসী আসাদুজ্জামানের ছেলে রেজোয়ান আল আবিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিম|
এ সময় রেজোয়ান আল আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মুঠোফোন সঙ্গে নিয়ে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বের হয়ে যায়| সন্ধ্যায় আবিরের পিতা মালয়েশিয়া প্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে আবিরের ফোনের ইমু না¤^ার থেকে হিন্দি ভাষায় ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে ফোন করা হয়| চাদাঁ না পেয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় হত্যাকারী দুই কিশোর বন্ধু|
মালয়েশিয়া থেকে নিহত আবিরের পিতা বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা পুলিশকে জানায়| পরে পুলিশ আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তারা তাকে গাংনী উপজেলার মানিকদিয়া গ্রামের বালিয়া গাড়ির মাঠে হত্যা করে ফেলে রেখেছে বলে ¯^ীকার করে| পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে|
এ ঘটনার নিহতের মা রোজিনা খাতুন গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন| মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত নিহত আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে ১০ ও ৭ বছর কারাদণ্ড প্রদান করেন| এ সময় আদালতে আসামীর পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন ও রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন|
মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন,দন্ডবিধির ৩০২ ও ৩৮৫ ধারায় আসামী শিশু হওয়ায় এটা শিশু আইনের সর্বোচ্চ সাজা| আদালত নিষিদ্ধ পাবজী বা ফ্রি ফায়ার গেম এ্যাপস দ্রুত দেশের স্মার্ট মোবাইল থেকে অপসারণের জন্য বিটিআরসিরকে নির্দেশ দিয়েছেন| একই সাথে জরিমানার টাকা দন্ডপ্রাপ্ত পরিবারের অস্থাবর-স্থাবর সম্পত্তি নিলামে ক্রয় করে সমুদয় অর্থ আদায় করে প্রদানের জন্য ডিসিকে নির্দেশ দেন|
