সুমন আহমদ, দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ার জেরে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃদ্ধ শ্বশুর মোহাম্মদ আলীকে (৭৫) ঠান্ডা মাথায় খুন করার অভিযোগে তাঁর পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নিহতের পুত্রবধূ ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী হোসনা বেগম (৩৮) এবং ভাড়াড়াটে খুনি এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) ও মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নজরুল ইসলাম (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। তাঁর মালিকানাধীন জমিজমা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু বৃদ্ধ শ্বশুর জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারে তীব্র কোন্দল ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই বৃদ্ধকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপরিকল্পিত ছক কষেন পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও তাঁর স্বামী ইসমাইল মিয়া।
হোসনা বেগম তাঁর দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বশুর মোহাম্মদ আলীকে হত্যার দায়িত্ব দেন। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাতের দিকে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। চুক্তির অংশ হিসেবে ওই রাতে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও অপর সহযোগী জিয়াউর রহমান ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টেনে অত্যন্ত নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন এবং দ্রুত পালিয়ে যান। পরদিন শনিবার সকালে হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে এলাকায় অপপ্রচার চালান হোসনা বেগম এবং তড়িঘড়ি করে দাফনের প্রস্তুতি নেন। তবে নিহতের মুখে রক্তের দাগ এবং গলায় স্পষ্ট কালো আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি লিখিত হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় তদন্তে নামে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে মূল পরিকল্পনাকরী পুত্রবধূসহ তিনজনকে আইনের আওতায় আনে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, জমি লিখে না নেওয়ার পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ভাড়ায় খুনি দিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
