পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সীমান্তঘেঁষা ইউনিয়ন বুড়াবুড়ির মানুষের চিকিৎসাখাতে জরুরি যাতায়াতের ভোগান্তি ও দূর্ভোগ দীর্ঘদিনের। দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার এ খাতে বিপাকে থাকা মানুষের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে চালু করা হয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল থেকে প্রত্যন্ত এ ইউনিয়নের মানুষের সেবায় যুক্ত হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সটি। জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় যাতায়াতের এই সংকট দূর হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমান্ত এলাকার এই ইউনিয়নে জীবনযাত্রার মান আগের চেয়ে উন্নত হলেও হঠাৎ প্রসূতি রোগী, গুরুতর অসুস্থ বা সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। যানবাহন সংকটে অনেক সময় সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠত।
অ্যাম্বুলেন্সটি চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জরুরি পরিস্থিতিতে বাহন খোঁজার যে ভোগান্তি ছিল, এখন তা হাতের নাগালে আসায় চিকিৎসার পথ অনেকটাই সুগম হলো।
বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, আমরা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করি। এই এলাকার মানুষ অনেক গরিব। হঠাৎ করে কোন মানুষ অসুস্থ হলে মাইক্রোবাস জোগাড় করে তারপর হাসপাতালে রওনা হতে হয়। এতে অনেক সময় লাগার কারণে অনেকে পথের মধ্যে মারা যায়। আজকে বাচ্চু ভাই যে এম্বুলেন্স দিলেন এটি অনেক উপকার হবে এই এলাকার মানুষের জন্য।
রেজাউল করিম রাজু নামে এক তরুণ বলেন, পুরো ইউনিয়নের বসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। কিন্তু দাবি বাস্তবায়নে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় নি। এই অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক উপকারে আসবে এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য। যিনি এই উপহার দিয়েছেন তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।
অ্যাম্বুলেন্স চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি শুধু একটি গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নয় আমার। মানুষের বিপদের সময় দুটো পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব। দিন রাত ২৪ ঘন্টা সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি। একই সাথে তিনি বলেন, সেবা নিতে ইউনিয়নের মানুষদের শুধু মাত্র জ্বালানি খরচ বহন করতে হবে। তা ছাড়া সব ধরণের সেবা ফ্রি।
এর আগে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তি নিরসনে ব্যক্তি উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স সেবাটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল হোসেন বাচ্চু। একই সাথে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই সেবা সচল রাখতে দুজন চালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই অ্যাম্বুলেন্সের আগমনকে বরণ করে নিতে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি ইউনিয়নের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন গলি প্রদক্ষিণ করে সেবাটির প্রচার নিশ্চিত করে।
এবিষয়ে উদ্যােক্তা দুলাল হোসেন বাচ্চু বলেন, গত চার বছর আগে আমার এক প্রতিবেশী অসুস্থ্য হওয়ার পর গাড়ির জন্য প্রায় চার ঘন্টা অপেক্ষা করেছে। এতে তার অবস্থা গুরুত্বর হয়ে উঠে।
এদিকে দিনের পর দিন ইউনিয়নের অনেককে জরুরি হাসপাতালে যেতে যাতায়াতে নানা ধরণের ভোগান্তিতে পড়তে দেখেছি। সব মিলিয়ে মানুষের এই ভোগান্তি দেখে অবশেষে নিজেই একটি অ্যাম্বুলেন্স ইউনিয়ন বাসিকে উপহার দিতে উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছি। আশা করি এখন সীমান্তের এই ইউনিয়নের মানুষ জরুরি মুহূর্তে দ্রুত হাসপতালে পৌছাতে পারবে। আর এই এম্বুলেন্স চালকের ফোন নম্বর ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দেয়া হয়েছে এবং স্থানীয় তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবে।
