কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে চাচাত ভাইয়ের দায়ের কোপে তবিবর রহমান (৪৫) নামে এক প্রতিবন্ধী যুবক নিহত হয়েছেন।
২৩ আগস্ট রোববার সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের সাপমারি মাঠে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত তবিবর রহমান মল্লিকপুর গ্রামের নবী উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে।
নিহতের ভাই জিয়ার রহমান জানান, রোববার সকালে পারিবারিক কলহের জেরে তবিবর রহমান তাঁর চাচিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা গফুর হোসেন এবং চাচাত ভাই শাকিল হোসেন ও উজির হোসেন তাকে মারার জন্য ধাওয়া করলে তিনি প্রান ভয়ে দৌড়ে মল্লিকপুরের সাপমারি মাঠে চলে যান। সেখানে তাকে ধরে লাঠি দিয়ে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে গফুর হোসেন তাঁর হাতে থাকা দা দিয়ে তবিবরের পেটে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন জিয়ার রহমান।
স্থানীয় প্রতিবেশী শিমুল হোসেন জানান, তবিবর রহমান একসময় ভালো ছাত্র ছিলেন। খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কাজে পারদর্শী ছিলেন। বিয়ের পর স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিহতের মামাতো ভাই আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তবিবর রহমান দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। রোববার সকালে পরিবারের এক নারী সদস্যকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় ক্ষুব্দ হয়ে তাঁকে মারধর ও পরে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গফুর হোসেন, তাঁর ছেলে শাকিল হোসেন ও উজির হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে তবিবর রহমান নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার লাশ উর্দ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।
