ঢাকাSunday , 20 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: পিবিআইয়ের অভিযানে অলংকারসহ গ্রেফতার আরও ৫

Mahamudul Hasan Babu
September 20, 2026 3:44 pm
Link Copied!

​রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃ জামালপুরের বিচারক দম্পতির ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য ও চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে ২ ব্যবসায়ীসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রূপার বিপুল অলংকার।

​রবিবার (২০সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিবিআই জামালপুরের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে এ ঘটনায় ভুল তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল,যারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

​গ্রিল কেটে লাখ টাকা ও ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের ভবনের তিনতলায় ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির শাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনি। দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে নগদ ১ লাখ টাকাসহ প্রায় ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
​ঘটনার পরদিন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম ছরোয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন।পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই সূত্র জানায়,তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে মূল চোর রাহেল (২৪) ও বিশাল (২১)-দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় চক্রের অন্য সদস্য দুখু মিয়া (২৪)কে।
​গ্রেফতারকৃত চোরদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী,৩ সেপ্টেম্বর বানিয়াবাজার থেকে চোরাই স্বর্ণ ক্রেতা মাসুদ রানা (৪২) এবং মাদারগঞ্জের মিলন বাজার থেকে মোশারফ হোসেন (৩৮) নামের দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চুরির পর গলানো ২৩.১৯ গ্রাম স্বর্ণ এবং প্রায় ২৬ ভরি রূপার অলংকার জব্দ করা হয়েছে। আগের ৫ আসামি নির্দোষ ভুল তদন্ত করেছিল থানা পুলিশ চুরির পর প্রাথমিক তদন্তকালে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ওই ভবনের কাজের মেয়ে নিলুফা ও বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যে গ্রেফতার করা হয় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ মোট ৫ জনকে। পরবর্তীতে তাদের রিমান্ডেও নেওয়া হয় এবং তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।

​তবে পিবিআই তদন্তে নেমে দেখেছে,পূর্বের তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক গ্রেফতারকৃত এই ৫ জনের সাথে চুরির কোনো সম্পর্ক নেই।

​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক রুপম কুমার সরকার বলেন,“নতুন গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩ জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে পুলিশ যে ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছিল,তাদের কললিস্ট ও তথ্যের সাথে ঘটনার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তারা চুরির ঘটনার সাথে জড়িত নন।”

​এ বিষয়ে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা (পুলিশের উপ-পরিদর্শক) শাহিনুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি “ব্যস্ত আছেন,থানায় গিয়ে ফোন দিতে বলবেন” জানিয়ে কল কেটে দেন।

​অভিযানের বিষয়ে পিবিআইয়ের বক্তব্য
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পরই পিবিআইয়ের তদন্ত দল দিনরাত কাজ করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে। প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও চোরাই মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চুরির ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার ও বাকি মালামাল উদ্ধারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।