বিশ্বজিৎ সিংহ রায়,,স্টফরিপোর্টার ( মাগুরা)।। শরতের বিদায়বেলায় প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য হয়ে ফুটে থাকে শিউলি ফুল। রাতের আঁধারে ফোটা সাদা পাপড়ির মাঝখানে কমলা রঙের আভা, ভোরের শিশির আর মিষ্টি সুবাস*সব মিলিয়ে শিউলি বাংলার প্রকৃতিতে নিয়ে আসে এক অনন্য স্নিগ্ধতা। গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা ফুল আর ভোরে মাটিতে ঝরে পড়া শিউলির দৃশ্য মন কাড়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের।
মাগুরা জেলার গ্রামবাংলায় বাড়ির আঙিনা, ব্যক্তিগত বাগান ও বসতবাড়ির আশপাশে শিউলি গাছের দেখা মেলে। মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার গ্রামীণ পরিবেশে এ ফুলের উপস্থিতি শরৎ-হেমন্তের সৌন্দর্যকে আরও স্নিগ্ধ করে তোলে। তবে বর্তমানে চার উপজেলার ঠিক কোন কোন স্থানে শিউলি ফুটেছে, তা সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন।
শিউলি ফুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে ভোরের আলোয়। রাতভর ফুটে থাকা ফুলগুলো যখন গাছের নিচে ঝরে পড়ে, তখন সবুজ ঘাসের ওপর তৈরি হয় সাদা-কমলা রঙের কোমল আস্তরণ। হালকা বাতাসে ডালপালা দুললে সবুজ পাতার আড়ালে থাকা ফুলগুলোও দোল খায়। ফুলের মৃদু সুবাসে ভোরের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও মনোরম।
শিউলি ফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যেরও অংশ।
পূজা-পার্বণে এ ফুলের ব্যবহার রয়েছে। এর কমলা বৃতি থেকে ঐতিহ্যগত ভাবে প্রাকৃতিক রং তৈরির নজিরও আছে। শিশির ভেজা ঘাসের বুকে শিউলি ঝরে যায়,সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে শরৎ স্মৃতি গায়। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ সৌন্দর্য ধরে রাখতে বাড়ির আঙিনা ও বাগানে শিউলি গাছ লাগানো যেতে পারে। কারণ শিউলির সুবাস ও ঝরে পড়া ফুল শুধু একটি ঋতুর সৌন্দর্য নয়, বাংলার প্রকৃতির চিরচেনা অনুভূতিরও নাম।
