আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর প্রতিনিধি:কৃষিপ্রধান মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সারসংকট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে উঠেছে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ। কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি মূল্যে বরাদ্দ করা সার যথাসময়ে তাঁদের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু সার ডিলার ও সাবডিলারের কার্যক্রমের কারণে সার বিতরণব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রয়োজনের সময় সার না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন কৃষকেরা।
মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কৃষকদের কাছ থেকে বরাদ্দের সার না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলতি মাসে তাঁরা ডিলারদের কাছ থেকে কোনো সার পাননি। ফলে সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, সারসংকট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের প্রতিবাদে তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকদের এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারসংকটের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে। বরাদ্দের সার যথাসময়ে কৃষকদের হাতে পৌঁছানো এবং সংকটের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি সামনে এসেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে ওঠা অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু সার ডিলার বরাদ্দের সার মজুত করে রাখছেন কি না, কিংবা যথাসময়ে বিতরণ না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এমনকি সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার উদ্দেশ্যে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সার মজুত রাখছেন কি না, সে অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে, কিছু সাবডিলারের নামে বরাদ্দ করা সার কৃষকদের কাছে সরাসরি বিক্রি না করে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হতে পারে। পরে সেই সার খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বরাদ্দপত্র, সার উত্তোলনের চালান, বিক্রির রেজিস্টার এবং মজুতের হিসাব পরীক্ষা করা জরুরি।
কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ পাওয়া নিশ্চিত করা। কিন্তু বরাদ্দের সার যথাসময়ে বিতরণ না হলে কৃষকেরা যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন, তেমনি ফসলের আবাদ ও উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ অবস্থায় গাংনী উপজেলায় প্রকৃত সারসংকটের কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা জরুরি। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দের পরিমাণ, ডিলারদের গুদামে থাকা সারের মজুত, উত্তোলনের হিসাব এবং কৃষকদের মধ্যে বিতরণের তথ্য যাচাই করা হলে সংকটের প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে।
তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলতি মাসে সার না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার, সাবডিলার ও উপজেলা কৃষি বিভাগের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
কৃষকদের প্রশ্ন—সরকারি বরাদ্দের সার থাকার পরও তাঁরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বরাদ্দ থেকে শুরু করে কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো বিতরণব্যবস্থা স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা এখন সময়ের দাবি।
গাংনীতে সারসংকটের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী? সরকারি বরাদ্দের সার যথাসময়ে কৃষকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না, বরাদ্দ ও বিতরণের হিসাবে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চলছে।
তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলতি মাসে সার না পাওয়ার অভিযোগ এবং গত ২৪ তারিখে কৃষকদের মানববন্ধনের বিষয়টিসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী পর্বে বরাদ্দ, সার উত্তোলন, মজুত ও বিতরণের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলার, সাবডিলার ও কৃষি বিভাগের বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।
সারসংকট নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আরও তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
