লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ঘর নির্মাণের জন্য আনা পাথরের ট্রাক আটকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী নামের এক ব্যক্তি দলের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শেখ ফরিদ,অভিযোগকারী মোহাম্মদ নুরুন্নবী উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি সিটু পাটোয়ারীর ছেলে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একই এলাকার মফিজ ড্রাইভারের ছেলে মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ শেখ ফরিদ। শেখ ফরিদ ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং রুহুল আমিন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ও চর পোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
নুরুন্নবীর অভিযোগ, তিনি নিজের বাড়িতে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে ছাদ ঢালাইয়ের জন্য সিলেট থেকে দুই ট্রাক পাথর কিনে আনেন। পাথরবাহী ট্রাক দুটি নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা গাড়ি আটকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রথমে দুই হাজার ও পরে তিন হাজার টাকা দিতে চাইলে তাঁরা তা ফেরত দেন। পরে আরও তিন হাজার টাকাসহ মোট আট হাজার টাকা তাঁদের ক্লাবে গিয়ে জমা দেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপরও বাকি দুই হাজার টাকার জন্য তাঁকে বারবার ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নুরুন্নবী। এ ছাড়া নারিকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তাঁকে হয়রানি ও মারধরের অভিযোগ করেছেন তিনি। নুরুন্নবীর ভাষ্য, তাঁর বাড়ির নারিকেল গাছ থেকে একই এলাকার এক যুবক নারিকেল চুরি করলে তাঁর ছেলে ওই যুবককে হাতেনাতে ধরে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেখ ফরিদসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করেন। সেখানে ওষুধের খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হলে তিনি ১৫ হাজার টাকা দিতে সক্ষম হন। তবে ওই টাকা ফেরত দিয়ে পরে তাঁকে রাস্তায় একা পেয়ে জোর করে বিএনপির ক্লাবে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নুরুন্নবী বলেন,আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার পরিবারসহ আমরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছি। অথচ বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে কিছু নেতাকর্মী আমার কাছে চাঁদা দাবি করছে। ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে আমি অনেক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ শেখ ফরিদ বলেন, নুরুন্নবী যা বলছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাঁকে শুধু বলেছি, এই রাস্তায় আর ট্রাক ঢোকাবেন না। এতে রাস্তা নষ্ট হবে, কালভার্টগুলো ভেঙে যেতে পারে। এগুলোর দায়ভার কে নেবে? আমি শুধু তাঁকে সতর্ক করেছি।
