নড়াইল প্রতিনিধি (মোঃ তানজির হোসেন)সোমবার কৃষি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পাখি দোয়েলসহ উপকারী পাখি ও পোকামাকড়। কৃষি উপকরণের ভারসাম্যহীন ব্যবহারে ফসল উৎপাদন বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন কৃষিবিদ ও পরিবেশবাদীরা।
নড়াইলের বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ফলন বাড়ানোর আশায় অনেক কৃষক পরামর্শ ছাড়াই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। এতে পোকা দমন হলেও দোয়েল, শালিক, টুনটুনিসহ পোকা খেয়ে বাঁচা পাখিগুলোর খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, “আগে জমিতে দোয়েল দেখা যেত। সকালে মিষ্টি ডাক শোনা যেত। এখন কীটনাশক দেওয়ার পর থেকে পাখি আর দেখি না। জমির পোকাও কমেছে, কিন্তু মাটির অবস্থাও খারাপ হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে শুধু ক্ষতিকর পোকা নয়, উপকারী পোকা ও পাখিও মারা যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দোয়েলের মতো পাখিরা প্রতিদিন প্রচুর ক্ষতিকর পোকা খেয়ে কৃষকের বন্ধু হিসেবে কাজ করে। তারা কমে গেলে পোকার আক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নড়াইল কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক বলেন, “আমরা কৃষকদের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা IPM পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। পরিমিত কীটনাশক ব্যবহার, জৈব সার ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে উৎসাহিত করছি। তা না হলে ভবিষ্যতে মাটি ও পরিবেশের বড় ক্ষতি হবে।”
পরিবেশবিদরা বলছেন, জাতীয় পাখি দোয়েলের সংখ্যা কমে যাওয়া পরিবেশের জন্য সতর্কবার্তা। তারা কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন এবং কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
নড়াইলের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কীটনাশকের বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। পরিবেশ ও কৃষি উভয়কে বাঁচাতে এখনই টেকসই কৃষির দিকে যেতে হবে।
