ঢাকাMonday , 17 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনুমোদন পেল ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটি) 

Mahamudul Hasan Babu
August 17, 2026 2:04 pm
Link Copied!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিতব্য ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটি) সরকারি অনুমোদন পেয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ইএসডিওর দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ইএসডিও জানায়, ‘শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে উদ্ভাবন, আর উদ্ভাবন থেকে কর্মসংস্থান’ এই দর্শনকে সামনে রেখে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রিধারী নয়, জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মজীবনের উপযোগী সক্ষমতা সম্পন্ন করে গড়ে তোলাই হবে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিকল্পনায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃষি, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদাসম্পন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি আধুনিক গবেষণাগার, উদ্ভাবন গবেষণাগার এবং সমস্যা সমাধানভিত্তিক গবেষণার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কার্যক্রম, কর্মজীবন সহায়তা এবং চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ ও স্টার্টআপ বিকাশে বিশেষ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ উজ জামান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে একটি উচ্চমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তারা দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পাওয়ায় তারা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞতা সরকার প্রধান তারেক রহমান ও এলজিআরডি মন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে কৃর্তি সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি সনদ নিয়ে বের হবে না। সে বের হবে জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মজীবনে সফল হওয়ার সক্ষমতা নিয়ে।
তার ভাষায়, ডিগ্রি নয়, সক্ষম মানুষ তৈরি করাই হবে ইউস্টের সাফল্যের মাপকাঠি।
ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনোতোষ কুমার দে বলেন, উত্তরাঞ্চলের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাড়ি জমায়। নিজ এলাকায় মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় মেধাকে স্থানীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তরুণ শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু প্রচলিত শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন যথেষ্ট নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মতো খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে পারলে ইউএসটি উত্তরাঞ্চলের তরুণদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
সমাজ সেবক সুবর্ণ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলের স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে গবেষণার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ, ডিজিটাল রূপান্তর, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক উদ্ভাবনের মতো বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান বের করার সুযোগ তৈরি হবে।
কলেজ শিক্ষক জুলফিকার আলী বলেন, উত্তরাঞ্চলের বাস্তব সমস্যাগুলোই বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিষয় হতে পারে। কৃষি, জলবায়ু, পানি, পরিবেশ ও প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে গবেষণা হলে এর সুফল শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, পুরো দেশের মানুষ পেতে পারে।
স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা মাজেদুর, সাইফুল ও রহমানের মতে, উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যকর সংযোগ ঘটাতে পারলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ইএসডিও কর্তৃপক্ষ জানায়, মেধাবী, নারী, প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও শুধু একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ই পাবে না, বরং উত্তরাঞ্চলে গড়ে উঠবে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক নতুন একটি পরিবেশ। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিল্প ও উদ্যোক্তা সংযোগ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইএসডিওর ভাষ্য, শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে উদ্ভাবন, আর উদ্ভাবন থেকে কর্মসংস্থান” এই দর্শনকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। উত্তরাঞ্চল থেকেই বিশ্বমানের জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নতুন পথ তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।