পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তিন সন্তানের জননীকে নিজের স্ত্রী দাবি করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের খুটামারা এলাকায় বিকালে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশীরা জানায়, সফিকুল ইসলাম প্রায়ই খুটামারায় আছিম উদ্দিনের বাসায় যাতায়াত করতেন। যদিও তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিবেশীরা কিছু জানতো না। বুধবার বিকালে সফিকুল ইসলাম আছিম উদ্দিনের বাসায় আসলে এলাকাবাসী সেই বাড়িতে গিয়ে সফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
এই সময় সফিকুল ইসলাম জানান আছিম উদ্দিন তার শ্বশুর হন। আছিম উদ্দিনের মেয়ে আঞ্জুয়া বেগমকে সফিকুল ইসলাম বিয়ে করেছেন বলে জানান। অথচ প্রতিবেশীরা জানান তারা এই বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না। সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা সবুজপাড়া এলাকার বেলাল হোসেনকেই তারা আঞ্জুয়ার স্বামী হিসেবে চিনে।
জানা গেছে, আঞ্জুয়া বেগম ও বেলাল হোসেনের প্রায় ২৫ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। সেই সংসারে তাদের তিন সন্তান আছে।তাদের বড় মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন।
ঘটনার সময় প্রশ্নের মুখে আঞ্জুয়া বেগম বলেন, তিনি তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন।
যদিও তাৎক্ষণিক তালাক প্রদানের কোন বৈধ কাগজ তিনি দেখাতে পারেননি। তালাকের কাগজপত্র পূর্বের স্বামীর ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এইদিকে, সফিকুলের প্রথম স্ত্রীর নাম নিলুফা ইয়াসমীন।সেই সংসারে তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে নিলুফা ইয়াসমীন কিছু জানেন না বলেন তিনি।
সফিকুল ইসলাম ও আঞ্জুয়া বেগমের নতুন সম্পর্কের বিষয়ে বেলাল হোসেন বলেন, আমি কোন তালাকনামা পাইনি।সফিকুল আমার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। যার কারণে তিন মাস আগে আমার স্ত্রী বাবার বাড়িতে এসে থাকা শুরু করে। কাল হঠাৎ করে জানতে পারি এই খবর। এই ঘটনায় তিনি দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন বলে জানান।
সফিকুল ইসলাম বলেন, আমার শ্বশুর ফোন করায় দেখা করতে গেছিলাম।ইসলামি শরীয়াহ মেনে আমরা বিয়ে করেছি। আমাদের মধ্যে কোন অবৈধ সম্পর্ক নেই।
