সুমন আহমদ, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ২ নং নরসিংপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৬ নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক নরসিংপুর বাজার-রগারপাড়-বালিউরা বাজার। কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের এই প্রধান সড়কটি আজ সংস্কারের অভাবে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের চরম অবহেলা ও মেরামতের অভাবে রাস্তাটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী নরসিংপুর ও বালিউরা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। কর্দমাক্ত গর্তে আটকে পড়ে স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম নষ্ট হওয়া যেন শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ঘটনা। শুধু শিক্ষার্থী নয়, এই এলাকার অসংখ্য কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গিয়ে পরিবহন সংকটে পড়েন। বিশেষ করে, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও জরুরি রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় সড়কটির বেহাল দশা তাদের চরম ঝুঁকি ও যন্ত্রণার মুখে ঠেলে দেয়।
স্থানীয়রা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে সড়কটির সংস্কারের আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই পাওয়া গেছে শুধু মৌখিক আশ্বাস। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটি সংস্কারের কোনো বরাদ্দ বা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মাহের, নজরুল, আল আমীন যৌথ বিবৃতিতে জানান, নরসিংপুর বাজার ও বালিউরা বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পয়েন্টকে সংযুক্ত করা এই সড়কটি এলাকার অর্থনীতির লাইফলাইন। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা মেরামতে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
জনগণের কষ্টের মূল্যায়নের বিষয়টি এখন সামনে চলে এসেছে। স্থানীয়রা অনেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়নের কাজ হয়, কিন্তু সেই কাজের সুফল থেকে আমরা বঞ্চিত। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা যারা উপেক্ষা করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে এর উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।
অবিলম্বে সড়কটির কার্পেটিং বা সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন এবং নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জনস্বার্থে এই সড়কটি দ্রুত চলাচল উপযোগী করার দাবি এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
