দুলাল হক, রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও জেলার নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। তবে হাসপাতালটি উপজেলার ১নং রুহিয়া ইউনিয়নে স্থাপনের জোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন মহল। এলাকাবাসীর দাবি, রুহিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১নং রুহিয়া ইউনিয়ন ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে কেন্দ্রীয় স্থানে অবস্থিত। ফলে এখানে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে উপজেলার সব ইউনিয়নের মানুষ সহজে ও স্বল্প সময়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারাও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল কিংবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। এতে সময়, অর্থ এবং ভোগান্তি তিনটিই বেড়ে যায়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয়দের মতে, ১নং রুহিয়া ইউনিয়নে হাসপাতালটি স্থাপন করা হলে এসব সমস্যার অনেকটাই দূর হবে। ৩নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের ইমরান, মুন্না ও এলিজা আফরোজ বলেন, “আমরা মনে করি ১নং রুহিয়া ইউনিয়নে হাসপাতালটি স্থাপন হলে সব দিক থেকেই এটি উপযুক্ত হবে। এতে উপজেলার সব এলাকার মানুষ সমানভাবে উপকৃত হবেন।” ৬নং সেনুয়া ইউনিয়নের আবু সাঈদ ও নুর ইসলাম মনা বলেন, “উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ১নং রুহিয়া। রুহিয়া ছাড়া অন্য কোথাও হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে সেনুয়া ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন। কারণ আমাদের জন্য সবচেয়ে সহজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রুহিয়ার সঙ্গেই রয়েছে।” ৫নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের জামিল, বাসনা ও চন্দন বলেন, “১নং রুহিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান। এখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হলে উপজেলার সব ইউনিয়নের মানুষ সমানভাবে সুবিধা পাবেন। “৪নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা নিরঞ্জন বলেন, “ঠাকুরগঁাও-পঞ্চগড় মহাসড়ক ১নং রুহিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে গেছে। এই সড়কের পাশে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। ২নং আখানগরের আ: কাদের ও সুলতানা বলেন যে, ১নং রুহিয়া ইউনিয়নে যেতে আমাদের সহজ হয়, বিধায় হাসপাতালটি ১নং রুহিয়ায় হোক এটি আমরা মনে প্রাণে চাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, “হাসপাতালটি কোথায় স্থাপিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।” ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “হাসপাতালটির স্থান নির্ধারণসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব এখনো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। তবে ১নং রুহিয়া ইউনিয়নে উপযুক্ত জমি পাওয়া গেলে এবং এটি যদি উপজেলার সব ইউনিয়নের জন্য কেন্দ্রীয় ও সুবিধাজনক স্থান হয়, তাহলে বিষয়টি যথাযথভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”
