ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কমলনগরে মেঘনায় জাল ফেলা নিয়ে বিরোধ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শঙ্কা

Mahamudul Hasan Babu
September 17, 2026 4:05 pm
Link Copied!

​(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চরে ‘পিডাইন্না জাল’ ফেলা ও নদীর পয়েন্ট দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জেলে সিন্ডিকেটের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে দুই পক্ষই মেঘনার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে নদীর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রভাবশালী দুটি পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দ্রুত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে চরের এই নিয়ন্ত্রণ লড়াইয়ে বড় ধরনের প্রাণহানিতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের সাধারণ বাসিন্দা ও জেলেরা।

অভিযোগ উঠেছে, যুবদল নেতা হেলাল মেম্বারকে সরিয়ে দিয়ে চরে মাছ শিকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ। তাঁর নেতৃত্বে তিনটি গ্রুপ একত্রিত হয়ে নিয়মিত চরে জাল ফেলে মাছ শিকার করছে । জিহাদের এই আধিপত্য বিস্তারের নেপথ্যে বিএনপির কয়েকজন নেতার ছত্রছায়া রয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাতাব্বর হাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর জেগে ওঠা নতুন চরে পিডাইন্না জাল ফেলা নিয়ে জেলে নেতাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সমঝোতায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. জিহাদ, যুবদল নেতা হেলাল মেম্বার, মো. কবির ও হাসানাতের নেতৃত্বে মোট ১০ টি নৌকা মাছ শিকার করবে। হেলাল মেম্বারের ৩টি, জিহাদের ৩টি, কবিরের ৩টি এবং হাসানাতের ১টি নৌকা মাছ ধরার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ, বিএনপি নেতা কবির ও হাসানাত জোটবদ্ধ হয়ে যুবদল নেতা হেলাল মেম্বারের গ্রুপকে বিতাড়িত করে এবং নদীতে জাল ফেলতে বাধা দেয়।
এই ​বিরোধের জের ধরে গত বুধবার রাতে হেলাল মেম্বারের একটি নৌকা চরের পয়েন্টে জাল ফেললে জিহাদ গ্রুপের জামাল মাঝির লোকজন তা কেটে ফেলে। এতে দুই পক্ষের জেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে জামাল মাঝিসহ চার জেলে হেলাল মেম্বারের নৌকায় উঠে হামলা চালালে, হেলাল মেম্বারের জেলেরা তাদের আটক করে ঘাটে নিয়ে আসে।
​পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশে খবর দেওয়া হলে কমলনগর থানা পুলিশ নদীঘাট থেকে আটক চার জেলেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—জামাল মাঝি (৪৫), তাঁর ছেলে সুমন (২৫), কামাল মাঝি (৫০) ও শামীম (২৫)।

​অভিযোগের বিষয়ে হেলাল মেম্বারের নৌকার মাঝি মো. রিপন বলেন, “সমঝোতা অনুযায়ী আমরা নদীতে জাল ফেলেছিলাম। কিন্তু জিহাদের নির্দেশে জামাল মাঝির সিন্ডিকেট গায়ের জোরে আমাদের জাল কেটে বিপুল ক্ষতি করেছে এবং বাধা দিলে অতর্কিত হামলা চালায়।”
যুবদল নেতা হেলাল মেম্বার বলেন, মারামারির ঘটনায় উভয়পক্ষই থানায় এজহার দিলেও পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ গ্রুপের মামলাটি গ্রহণ করে।আমাদেরটা গ্রহণ করেনি বিএনপি করে আজ আমরা অসহায়।

​অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের জামাল মাঝি দাবি করেন, “হেলাল মেম্বার একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার ও জোরপূর্বক নদী দখলের চেষ্টা করছেন। সাধারণ জেলেরা এর প্রতিবাদ জানালে তিনি উল্টো আমাদের চার জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যান, যাদের পরে পুলিশ উদ্ধার করে।”

কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ফরিদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় এজহার পেয়েছি। আমরা আইনানুযায়ী ব্যাবস্থা নিচ্ছি।