ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে হলে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এক দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এখন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার। একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং সক্রিয় সংসদীয় কমিটি নিশ্চিত করা গেলে দেশ ও গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নানা সমস্যা ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র চর্চা করতে হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারতে নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাদের গণতন্ত্র টিকে থাকে; কারণ তাদের বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মতো মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্বাধীন। পাশাপাশি তাদের গণমাধ্যমও যথেষ্ট শক্তিশালী। আমাদের দেশেও একই রকম শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সমাজকে এগিয়ে নিতে বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার, এই দুটি বিষয় ধরে রাখতে পারলে সমাজকে অনেকখানি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। দুর্ভাগ্যবশত, বিগত বেশ কিছুদিন আমরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তবে বর্তমান সরকার সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময় তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক এখন সারা বাংলাদেশের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের জন্যও একটি বড় সংকট। বহু তরুণ আজ মাদকের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের চেষ্টা করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র আয়তনের এই দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাস এবং ঠাকুরগাঁও একটি দারিদ্র্যপ্রবণ অঞ্চল। এখানে বড় ধরনের শিল্পকারখানা না থাকায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। স্থানীয় সুগার মিলটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
শহরের চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে, যার উপাচার্য নিয়োগ এবং জমিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে আগামী বছর থেকেই পুরাতন হাসপাতাল ভবনে অস্থায়ীভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে শহরকে অপরিকল্পিত অবস্থা থেকে মুক্ত করতে একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান হাতে নেওয়া হচ্ছে এবং শহরের যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত ডাইভারশন বা রিং রোডের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে।
এর আগে একই দিন সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে নেপাল ও বাংলাদেশের যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘সবার জন্য দৃষ্টি, প্রতিটি চোখের যত্ন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেসব দরিদ্র মানুষ অর্থাভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না, এই বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে তারা ব্যাপক উপকৃত হবেন।
ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. আবু মো. খায়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনজেএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. চেত রাজ পান্ত এবং বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী। দিনব্যাপী এই আয়োজনে শত শত সাধারণ ও দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান ও রোগ নির্ণয় সেবা দেওয়া হয়।
