রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঘর থেকে তুলে নিয়ে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় তিন আসামির প্রত্যেককে একই সাথে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
সোমবার (৩১আগস্ট) সকালে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ছাত্তার আলী (৪২)রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মালেক (৪৪) করাড়ার পাড় এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে অনু (৩২) একই এলাকার মৃত নায়েব আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়,দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় দুই সন্তানের জননী ওই ভুক্তভোগী গৃহবধূ জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের ভাটিপাড়ায় নিজ বাড়িতে একা বসবাস করছিলেন। তার একা থাকার সুযোগে স্থানীয় ছাত্তার আলী তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে আসামিরা সুকৌশলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে বের করে। দরজা খুলতেই আসামিরা তাকে অপহরণ করে ঘরের উত্তর পাশে একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে তিনজনে মিলে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ বর্বরোচিত ঘটনার তিনদিন পর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, মামলার মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। আদালত দুটি পৃথক ধারায় আসামিদের সাজা দেন— একটি ধারায় প্রত্যেকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অন্য ধারায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এ সাজা সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।
