পীরগঞ্জ (রংপুর)প্রতিনিধিঃ রংপুরের পীরগঞ্জ এবার সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা ও উন্নত বীজ ব্যবহারে ফলন হয়েছে আশানুরূপ। একই সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মনে। দীর্ঘদিনের লোকসানের শঙ্কা কাটিয়ে পাট চাষে আবারও লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে এখন সোনালী আঁশের সমারোহ। ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে পাটের ফলন হয়েছে ভালো। মাঠ থেকে পাট কেটে নদী-নালা ও জলাশয়ে জাগ দেওয়া, পচানো এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
চাষিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাটের গুণগত মানও ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় পাটের গাছ হয়েছে লম্বা ও সবল। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে কাক্সিক্ষত দাম পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তাঁরা।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় চলতি বছর উপজেলার পাঁচগাছী, শানেরহাট, টুকুরিয়া , বড় আলমপুর ও চতরা ইউনিয়নে পাট চাষ বেশী হয়।
সরেজমিনে উপজেলার ১৫ নং কাবিলপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের তারা মিয়া, শ্রীরামপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, তোতা মিয়া বিষ্ণুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা দিন-রাত পরিশ্রম করে পাট সংগ্রহ করছেন। পাট কাটার কাজে পরিবারের সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। কেউ পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন, কেউ পাটকাঠি রোদে শুকাতে দিচ্ছেন, আবার কেউ আঁশ ধুয়ে রোদে মেলে দিচ্ছেন। মাঠ থেকে পাট কেটে জলাশয়ে জাগ দেওয়া থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোÑসব মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে এখন কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
কৃষকেরা জানান, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় এবার পাটের গাছ বেশ ভালো হয়েছে। পাশাপাশি খাল, ডোবা ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। ফলে পাটের আঁশের মানও ভালো হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
বিষ্ণুপুর গ্রামের কৃষক তারা মিয়া বলেন, ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টির কারণে এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় আমরা লাভের আশা করছি। তবে বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে সেই আশা পূরণ হবে।
শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় গাছগুলো বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৯ থেকে ১০ মণ পাট পাওয়ার আশা করছি। খাল ও বাড়ির পাশের ডোবাগুলোতে এবার ভালোভাবে জাগ দিতে পেরেছি। বাজারে পাটের মোটামুটি ভালো দাম শুনছি। এমন দাম থাকলে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারব।
কৃষকেরা আরও জানান, বীজ, সার, শ্রমিক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাট উৎপাদনে ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন তাঁরা।
বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাটের আঁশের রং ও মান ভালো হলে কোথাও কোথাও আরও বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, এ বছর পীরগঞ্জ উপজেলায় পাট উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫ শত ৯৩ হেক্টর থাকলেও ৩ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দেশি পাট ১৩৩ হেক্টর এবং তোষা পাট ২ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
