মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী। গোপালগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় বেথুরী ইউনিয়ন একাদশকে ২-১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে উরফি ইউনিয়ন একাদশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় গোপালগঞ্জ জেলা ফুটবল স্টেডিয়ামে এই ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টটির আয়োজন করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন হিরা এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে জে কে পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় বেথুড়ী ইউনিয়ন একাদশ ও উরফি ইউনিয়ন একাদশ। চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে উভয় দলই দুর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে উরফি ইউনিয়ন একাদশ।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ। অতিথিগণ বিজয়ী চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “নিয়মিত খেলাধুলা শুধু শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখে না, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসিক অবসাদ দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাঠের খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সহমর্মিতা, শ্রদ্ধাবোধ, আন্তরিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। পাশাপাশি সুদৃঢ় ও সুশৃঙ্খল ঐক্য তৈরি হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, খেলাধুলা মানুষকে প্রতি মুহূর্তে আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী করে তোলার পাশাপাশি বাস্তব কর্মজীবনে পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল হতে শেখায়।
জেলা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ফাইনাল খেলাটি অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। খেলা উপভোগ করতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ক্রীড়ামোদী সুধীজন ও সর্বস্তরের মানুষ মাঠে উপস্থিত হন। এছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
