আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর প্রতিনিধি:মেহেরপুরে তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করে বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসি।
রবিবার দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামে তিন ফসলি কৃষিজমিতে বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
রোববার সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে চাঁদবিল গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজেদ আলী ও শরিফুল ইসলাম বকুল।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা প্রধান সড়কের পাশে চাঁদবিল গ্রামের মৌজা নং-৯১ এলাকায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। এলাকাটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এসব জমি অধিগ্রহণ করা হলে স্থানীয় কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
গ্রামবাসীর দাবি, চাঁদবিলের ৭১ নম্বর মৌজায় বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ইতোমধ্যে প্রধান সড়কের পাশে ইম্প্যাক্ট হাসপাতাল, ব্র্যাক সিড অফিস, ফিলিং স্টেশন, ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানি, সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় কৃষিজমির পরিমাণ অনেক কমে গেছে। অবশিষ্ট তিন ও চার ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হলে কৃষকদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে।
মানববন্ধনে চাঁদবিল গ্রামবাসীর পক্ষে জেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গুরুদাস হালদার বলেন, “আমাদের গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামের একমাত্র মাঠটি ‘মেহেরপুর মাঠ’ নামে পরিচিত। সেখানে কৃষকদের পাঁচ থেকে ১০ কাঠা করে সামান্য জমি রয়েছে। এসব জমি অধিগ্রহণ করে বিজিবি ব্যাটালিয়ন নির্মাণের কথা আমরা জানতে পেরেছি। ক্যাম্প হলে কৃষকেরা ওই জমিতে আর চাষাবাদ করতে পারবেন না। তাই আমরা জমি অধিগ্রহণ বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
জেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজেদ আলী বলেন, “চাঁদবিলের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ এসব জমিতে চাষাবাদ করে জীবন-জীবিকা ও সংসার পরিচালনা করেন। সামান্য এই জমির ওপরও যদি সরকারি হস্তক্ষেপ হয়, তাহলে পুরো এলাকার মানুষ অসহায় হয়ে পড়বে। কৃষকদের বাঁচাতে আমরা মানববন্ধন করছি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। তিন ও চার ফসলি জমিতে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা না করার দাবি রয়েছে। দেশ ও কৃষককে বাঁচাতে কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে।”
শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। গ্রামের সামান্য পরিমাণ জমির মধ্যেই ইতোমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। ফলে দিন দিন কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অবশিষ্ট জমিতে চাষাবাদ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। কৃষকদের পাশাপাশি কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
তিনি বলেন, “আমরা কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছি না। তবে কৃষকের শেষ সম্বল তিন ফসলি জমি নষ্ট করে কোনো স্থাপনা চাই না। কৃষিজমি রক্ষা করে বিকল্প জায়গায় বিজিবি বাটালিয়ন বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।”
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কৃষিকাজের জন্য অবশিষ্ট সামান্য জমিটুকুও অধিগ্রহণ করা হলে এলাকার কৃষিনির্ভর মানুষ জীবিকা হারাবেন। তাই প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিল করে তিন ফসলি কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপির অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সজিব আলী, আশরাফ আলী, আবুল কালাম, জাকের আলী, মতিউর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামের কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ মানববন্ধন করেন।
