ঢাকাTuesday , 3 November 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পঞ্চগড়ে সরকারি স্কুলের জমি জবরদখলের প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

Mahamudul Hasan Babu
November 3, 2026 10:18 am
Link Copied!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:aপঞ্চগড়ের বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় সাড়ে ৩৬ শতক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সংলগ্ন ঢাকা- পঞ্চগড় মহাসড়কে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আওতাধীন মসলেমপুর মৌজার ৩৬৫ দাগের ৩৬.৫ শতক জমি বদিউজ্জামাল বদি, জহিরুল ইসলাম, মাহমুদুল হক, গোলাম ফারুক সহ তাদের পরিবারের লোকজন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দখল করে সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সুধী সমাজের পক্ষ থেকে এই জবরদখলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানানো হয়।

উত্থাপিত সরকারি নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মসলেমপুর মৌজার ৩২ নম্বর এস.এ খতিয়ানের ৩৬৫ দাগের এই জমিটি সম্পূর্ণভাবে বোদা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামে রেকর্ডভুক্ত। আইনগতভাবে এই সম্পত্তিতে অন্য কোনো পক্ষ বা বাদীর মালিকানার কোনো সুযোগ বা বৈধ স্বত্ব নেই। সরকারি আইন ও গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই জমি দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি একটি পক্ষ খতিয়ানের ভুল ব্যাখ্যা ও ত্রুটিপূর্ণ দাবি তুলে এই সরকারি সম্পত্তি দখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

নথিপত্রে আরও দেখা যায়, জেলা প্রশাসন ও বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘The Government and Local Authority Lands and Buildings (Recovery of Possession) Ordinance, 1970’ এর আওতায় এখানে অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করার স্পষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে। নালিশি জমির মূল মালিক যেহেতু একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেহেতু এখানে প্রত্যক্ষভাবে সরকারি স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

মানববন্ধনে জবরদখলের এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, “স্কুলের জায়গা জবরদখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমাদের সমস্ত নথিপত্র সম্পূর্ণ স্পষ্ট এবং আইন আমাদের পক্ষে রয়েছে। অবিলম্বে এই অবৈধ কাজ বন্ধ না হলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক হাওয়ানুর লিপিয়ারা বেগম বলেন, “একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি এভাবে জবরদখল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে আমাদের কারিগরি ও সাধারণ শাখার শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, যেন অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়।”

কলেজ শাখার প্রভাষক নুরে আলম জাকারিয়া রতন বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব। যে মহলটি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এই সরকারি সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী দ্রুত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

প্রতিষ্ঠানের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ রুবেল ইসলাম বলেন, “এই জমিটি আইনগতভাবে এবং সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী আমাদের বিদ্যালয়ের সম্পত্তি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনোভাবেই সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করতে দেওয়া হবে না। আমরা অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

মানববন্ধনে এসময় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও এলাকার সুধী সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।