ঢাকাSaturday , 13 June 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নওগাঁ জেলা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা সিরিয়াল হামলাকারী গ্রেফতার, হত্যা ও একাধিক নৃশংস হামলার রহস্য উদঘাটন

Mahamudul Hasan Babu
June 13, 2026 5:30 am
Link Copied!

সবুজ হোসেন, নওগাঁ: নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নারীদের ওপর ধারাবাহিক নৃশংস হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আন্তঃজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোরশেদ আলম (২৭) কে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গত কয়েক মাসে সংঘটিত একাধিক আলোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ ও জাহানপুর এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে প্রবেশ করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ঘুমন্ত নারীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই রাতে আরও কয়েকজনকে আঘাত করে হামলাকারী পালিয়ে যায়।

এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি ধামইরহাটের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় একাধিক বাড়িতে প্রবেশ করে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

পরে ৭ মে বদলগাছী উপজেলার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় এবং ৪ জুন পত্নীতলা উপজেলার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী গুরুতর আহত হন। ঘটনাগুলোর ধরন ও কৌশলে মিল থাকায় পুলিশ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ইউনিট এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরে ১০ জুন ভোরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার বাসন থানার শরীফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে গোলাম মোর্শেদকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পাতহাট এলাকায়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ ধামইরহাটে উম্মে হাবিবার ওপর হামলার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এছাড়া ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলায় অন্তত আটটি বাড়িতে নারীদের ওপর হামলার কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন থানায় সংঘটিত অনুরূপ পাঁচটি এবং জয়পুরহাট জেলার একটি ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ নিবিড় তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলাগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতাসহ যেকোনো অপরাধ দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধপরিকর।”

এ ঘটনায় নওগাঁ জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাসহ মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য জেলার মামলাগুলোর সঙ্গেও অভিযুক্তের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।