নাটোর প্রতিনিধি: সরকারি চাকরির নিয়মে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা থেকে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বদলি হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন। স্বল্প মেয়াদের দায়িত্ব পালনকালেই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, মানবিক উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নলডাঙ্গাবাসীর হৃদয়ে বিশেষ স্থান তৈরি করে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমিয়ে নাগরিক সেবা সহজ ও জনবান্ধব করাই ছিল আল এমরান খাঁনের প্রধান লক্ষ্য। কেবল দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরেজমিনে ঘুরে মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনতেন তিনি। তাঁর সততা, আন্তরিকতা ও কর্মঠ মনোভাবের কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘জনবান্ধব ইউএনও’ হিসেবে পরিচিতি পান।
উপজেলা প্রশাসনের সহকর্মীরাও তাঁর বদলিতে শোক প্রকাশ করেছেন। নলডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সুমন সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী জানান, আল এমরান খাঁন কর্মকর্তা ও কৃষকদের সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনতেন এবং দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ নিতেন। শিক্ষক আব্দুর রহিম ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আব্দুল্লাহ আল বাকির মতে, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠন এবং হালতি বিল কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে তাঁর উদ্যোগগুলো প্রশংসনীয়। স্থানীয় সমাজসেবক ইউছিনুর রহমানের ভাষায়, “তিনি প্রচারবিমুখ হয়ে নীরবে কাজ করতেন এবং বিদায়বেলায় সাধারণ মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা বিরল।”
সাধারণ মানুষও এই মানবিক কর্মকর্তার বিদায় মেনে নিতে পারছেন না। বাঁশিলা গ্রামের আহসান আলী, পাটুলের মহির উদ্দিন এবং বাসুদেবপুরের ৫৫ বছর বয়সী লতিফা বেওয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, যেকোনো সমস্যায় গেলে ইউএনও সাহেব অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে কথা শুনতেন। বড় কর্মকর্তা হয়েও সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত নম্র ও আন্তরিক।
প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নলডাঙ্গার পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি। উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঝর্ণাধারা নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণসহ নলডাঙ্গা-নওগাঁ সড়কে দেশীয় প্রজাতির সোনালু গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করেন। এ ছাড়া হালতি বিলকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন প্রসারের নানা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তিনি।
বিদায়বেলায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মো. আল এমরান খাঁন বলেন, “নলডাঙ্গায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এখানকার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের যে সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা সারাজীবন মনে থাকবে। আশা করি এলাকার কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সরকারি বিধিতে নাটোরের নলডাঙ্গার চেয়ার ছাড়লেও, নিজ কর্ম ও মানবিক আচরণের মধ্য দিয়ে নলডাঙ্গাবাসীর ভালোবাসায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন ইউএনও আল এমরান খাঁন।
