আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি : মেহেরপুর শহরের নতুন পাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগে মোশারফ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে । সেই সাথে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন মেহেরপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ার নুরুন্নেসার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল মেহেরপুর শহরের নতুন পাড়ার মেয়ে ও গোভীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী দুপুরের দিকে ঘরে বসে কাজ করছিল। এসময় মোশারফ হোসেন তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে ওই শিশুকে একা পেয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সন্ধ্যার দিকে ঘরে একটি মোবাইলের রিং এর শব্দ শুনে আনোয়ারা খাতুন মোবাইলটি উদ্ধার করে। এর কিছুক্ষণ পর মোশাররফ এসে মোবাইলটি তার দাবি করে এবং সেটি নিয়ে চলে যায়। এরপর পরপরই তার মেয়ে বারবার বাথরুমে আসা-যাওয়া করায় তার মা তাকে জিজ্ঞেস করে। এসময় সে ধর্ষণের ঘটনার কথা তার মাকে জানায়। এক পর্যায়ে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় ৯ (১) ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সঃ৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১৯। যার জি আর কেস নং- ১১২/২০২৫। শিশু সহিংসতা মামলা নং ২৬/২০২৬। পরে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের সাক্ষে আসামী মোশারফ হোসেন দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সঃ৩) ৯(১) ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সেই সাথে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। মামলা রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর পারভিন সুলতানা এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী কৌশুলী ছিলেন।
