গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি। গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। বিচারকের ছোঁড়া পেপার ওয়েটের আঘাতে ওই নারী আইনজীবী আহত ও লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণের দাবিতে আজ সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলা বার ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, গতকাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ওপেন আদালতে এক মামলার শুনানি চলাকালে বিশৃঙ্খলার এক পর্যায়ে একপর্যায়ে বিচারক সুজন মিয়ার ছোঁড়া পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুত্বর আহত ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।
এই নজিরবিহীন ঘটনার জের ধরে আজ সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যরা বিচার কাজ বর্জন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি জেলা বার ভবন থেকে শুরু হয়ে আদালত প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বার ভবনের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে আইনজীবী নেতারা বলেন,
“প্রকাশ্য আদালতে বিচারক কর্তৃক একজন নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ওপর হামলা ও পেপার ওয়েট ছুঁড়ে মেরে আহত করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন ঘটনা। একজন আইনজীবীর পেশাগত মর্যাদা ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা থাকবে না।”
বক্তারা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একইসাথে তাঁরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার দ্রুত অপসারণের দাবি তুলে ধরে হুঁশিয়ারি দেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার পর থেকে আদালত প্রাঙ্গণে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালত সূত্রে জানা যায় উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি বিচারিক ক্ষমতা স্থগিত করা হয়েছে।
