ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পীরগঞ্জের গ্রামীণ জনপদ বদলে যাচ্ছে কাবিটা-টিআর প্রকল্পে

Mahamudul Hasan Babu
July 29, 2026 6:15 am
Link Copied!

মোঃ আকতারুজ্জামান রানা পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ  রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদে টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের নতুন ধারা বইতে শুরু করেছে। রাস্তা-ঘাট সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, কবরস্থান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজের মাধ্যমে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ১ম ও ২য় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) ১’শ ১৮ টি প্রকল্পে ৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ৩০ হাজার ৭’শ ৭২ টাকা,  গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন (টিআর) ১’শ ৫০টি প্রকল্পে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৫ হাজার ৪’শ ৯০ টাকা ও কাবিখা ৩৯টি প্রকল্পে ১’শ ৯২ মে.টন গম এবং কাবিখার ৩৯টি প্রকল্পে ১’শ ৯২ মে.টন চালসহ মোট ৩’শ ৪৬টি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। যা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় গোটা উপজেলায় প্রায় ১৯ কি.মি গ্রামীণ সড়কে ইটের সোলিং ও সিসি ঢালাই করা রাস্তার মাধ্যমে গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে, সেই সাথে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যন্ত পল্লী গ্রামের কাঁচা রাস্তায় ইট-বিছানো আবার অনেক রাস্তায় কংক্রিটের ঢালাই করা হয়েছে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হচ্ছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বেড়েছে। ত্রাণ ও পুর্ণবাসন অধিদপ্তরের উদ্যোগের ফলে উপজেলার গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যার সুফল পাচ্ছে পীরগঞ্জবাসী।
তবে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে নি¤œমানের কাজের অভিযোগও উঠেছে। কোথাও কোথাও বরাদ্দের তুলনায় নিম্নমানের কাজ বা অসম্পূর্ণ কাজের নজির পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শানেরহাট ইউনিয়নের পালানুশাহাপুর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা একরামুল, চাঁন মিয়া, রফিকুল মিয়া বলেন, এখানে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে “আগে বর্ষাকালে চলাচল করাই যেত না, এখন রাস্তায় ইট বিছানো হয়েছে তাই যাতায়াত করতে অনেক সুবিধা হচ্ছে।”
চৈত্রকোল ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ইসমাঈল, জিয়া, জয়নাল মিয়া জানান, বর্ষাকাল মানেই আমাদের কাছে দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টিতে যানবাহন দুরের কথা বাড়ি থেকে বের হওয়াই বন্ধ। কোন রকমে পায়ে হেটে বাজারে যাইতাম। এখন রাস্তায় সিসি ঢালাই ও ইটের সোলিং হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভাল।
সুধিজনদের মতে, টিআর ও কাবিটা প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভ‚মিকা রাখতে পারে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখা জরুরি বতোরা মত দিয়েছেন। তারা আশা করছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এসব প্রকল্প গ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর প্রচলিত মাটির কাজের পরিবর্তে গ্রামীণ সড়কে ইটের সোলিং ও সিসি ঢালাইয়ের প্রকল্প দিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুরোধ করেছি। এই বর্ষা মৌসুমে তার সুফল পাচ্ছে পীরগঞ্জবাসী।
জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, কতৃপক্ষের সঠিক তদারকি থাকায় প্রকল্পগুলো বর্তমানে দৃশ্যমান হচ্ছে। আগে যেখানে মাটির কাজ হতো এখন সেখানে ইট-সিমেন্টের ব্যবহার হচ্ছে ফলে কাজে স্বচ্ছতা বাড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পীরগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করণসহজ হবে। প্রকল্পে কোন অনিয়ম করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।